প্রথমবার সামনে থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জামাল। ট্রফি উন্মোচনের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অভিজ্ঞতাটা সত্যিই খুব ভালো। গিলবার্তো ট্রফি নিয়ে এসেছে, আর এই প্রথম আমি সামনে থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখলাম। অনেক ভালো লাগছে। সামনের দিনে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য বিশ্বকাপ হয়তো একটা নতুন অধ্যায় হয়ে উঠবে, এভাবে লিখতেই পারেন।’
বিশ্বকাপ ট্রফির আকার ও ওজন নিয়েও নিজের অনুভূতি জানান জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডার। জামাল বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম ট্রফিটা খুব ছোট হবে। কিন্তু সামনে থেকে দেখে বুঝলাম, এটা আসলে বেশ বড়। জিজ্ঞেস করে জানলাম, এতে প্রায় সাত কেজি খাঁটি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ট্রফি সবার জন্যই অনুপ্রেরণা। সবাইকে আরও উজ্জীবিত করবে।’
২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন জামাল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘২০০২ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখন আমার বয়স ছিল ১২ বছর। রোনালদো, কাফু, রিভালদো, গিলবার্তো—ওই দলটা আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে। টিভিতে ট্রফি দেখা এক কথা, সামনে থেকে দেখা আরেক কথা। সামনে আরেকটা বিশ্বকাপ আসছে। আমি চাই, আমার জন্মভূমি ডেনমার্ক যেন ট্রফি জেতে। না পারলে ব্রাজিল জিতুক।’
আরও পড়ুন:
বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরেফ বলেন, ‘বিশ্বকাপ ট্রফির এই সফর দেশের ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।’ তিনি বলেন, ‘এই স্পিরিট অবশ্যই আমাদের আছে। তবে সেই সামর্থ্য (বিশ্বকাপে খেলার) এখনো আমাদের হয়নি। হয়তো এখনই নয়, কিন্তু কোনো এক প্রজন্মের হাত ধরে বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলবেই।’
এর আগে টেলিভিশনের পর্দায় বহুবার বিশ্বকাপ ট্রফি দেখেছেন জামাল ভূঁইয়া। তবে এবারই প্রথম কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেলেন তিনি। অরাধ্য এই ট্রফি এত কাছে পাওয়ার রোমাঞ্চ স্পষ্ট তার কণ্ঠে। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের বিশ্বাস, এই ট্রফি দেখার অভিজ্ঞতা দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের স্বপ্ন দেখাতে এবং কঠোর পরিশ্রমে অনুপ্রাণিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ব ভ্রমণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোকা-কোলার উদ্যোগে ২০২৬ বিশ্বকাপ ট্রফি ঢাকায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশে এলো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ ট্রফি। জামাল ভূঁইয়ার প্রত্যাশা, এই সফর থেকেই শুরু হোক বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের বিশ্বকাপ–স্বপ্নের পথে যাত্রা।





