ফুটবল যাদের ডিএনএ-তে, সাম্বা ছন্দ যাদের রক্তে, তাদের পায়ে বল কথা বলবে সেটাই তো স্বাভাবিক। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎপাদন কারখানা বা ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে নিজেদের আবারও প্রমাণ করলো ব্রাজিল। ফুটবলার রপ্তানিতে বিশ্বের সব দেশকে পেছনে ফেলে আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গবেষণা সংস্থা ফুটবল অবজারভেটরির রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। বর্তমানে ব্রাজিলের ১ হাজার ৪৫৫ জন পেশাদার ফুটবলার ছড়িয়ে আছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লিগগুলোতে।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ থেকে শুরু করে এসিয়ার অখ্যাত টুনামেন্ট, সবখানেই দাপট দেখাচ্ছে সেলেসাওরা। এই তলিকায় তাদের ধারে-কাছেও নেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ফুটবলার রপ্তানিতে ব্রাজিলের পরের নামটা ফ্রান্সের। বর্তমানে বিদেশে খেলা ফরাসি ফুটবলারের সংখ্যা ১ হাজার ২৭৫ জন।
আরও পড়ুন:
তালিকায় তিন নম্বরে আছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। বিদেশি লিগে খেলছে দেশটির ১ হাজার ১৬ জন ফুটবলার। তবে শুধু এ বছর সবচেয়ে বেশি ৮৬ জন ফুটবলার রপ্তানি করেছে ফ্রান্স। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খেলোয়াড় পাঠানোর তালিকায় উন্নতি করেছে পর্তুগাল, স্পেন ও নাইজেরিয়া।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের চাহিদা বিশ্বজুড়ে সবসময়ই বেশি। কারণ তাদের সহজাত ড্রিবলিং স্কিল এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা। এছাড়া ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর মূল আয়ের উৎসই এখন তরুণ প্রতিভা তৈরি করে ইউরোপে চড়া দামে বিক্রি করা।
ফুটবলার রপ্তানি এখন ব্রাজিলের জন্য কেবল ক্রীড়াশৈলি নয়, দেশটির অন্যতম বড় এক অর্থনৈতিক খাতও। প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরো রেমিট্যান্স আসছে এ খাত থেকে।
কেবল ইউরোপই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের চাহিদা বেড়েছে আকাশচুম্বী। দারিদ্র্য জয় করে ইউরোপের রাজপুত্র বনে যাওয়ার এ স্বপ্নে বিভোর এখন ব্রাজিলের প্রতিটা গলি।





