ভোর থেকে অল্পসময় পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখেই কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করেন স্থানীয়রা।
সাধারণত প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলে। তবে এবার আগস্টের শুরুতেই পর্বতচূড়াটি দৃশ্যমান হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস।
ভোরে অনেকেই বাড়ির ছাদ, খোলা মাঠ ও উঁচু স্থান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করেন। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও আশপাশের এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। বিশেষ করে মেঘ ও কুয়াশামুক্ত পরিষ্কার আকাশে ভোর থেকে সকাল এবং বিকেলে পর্বতচূড়াটি সবচেয়ে ভালো উপভোগ করা যায়। সূর্যের আলো পড়ার সাথে সাথে রং বদলায় শ্বেত শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা।
আরও পড়ুন:
কাঞ্চনজঙ্ঘা বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার। ভারতের সিকিম ও নেপালের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত এই পর্বতশৃঙ্গ পঞ্চগড়ের প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ আকর্ষণের নাম। শীত মৌসুমে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন পঞ্চগড়ে। এবার কেবল দেখা দেয়ায় এখনো পর্যটকদের আনাগোনা কম।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এবার বেশ আগে ভাগেই দেখা দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। আমরা এসময়টির জন্য অপেক্ষা করি। হালকা শীতে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্যের পাশাপাশি তেঁতুলিয়ার প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করে। পর্যটন শিল্প জমে উঠে।’
তেঁতুলিয়ার স্কুল শিক্ষক সাকিলা আক্তার বলেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা অপরূপ দৃশ্য যে কারো চোখে প্রশান্তি এনে দেবে। যাদের পাসপোর্ট ভিসা করে বিদেশে গিয়ে এই পর্বত চূড়ার সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ হয় না তাদের জন্য মোক্ষম জায়গা পঞ্চগড়।’
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অ. দা.) এস এম আকাশ বলেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা দিতে শুরু করেছে সবে। আমরা তেঁতুলিয়ার পর্যটন এলাকাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি পর্যটকরা এবার কাঞ্চনজঙ্ঘার সঙ্গে তেঁতুলিয়ার প্রকৃতি প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারবেন।’





