সব ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয় দিল্লির যন্তর মন্তরে। এরপর দিল্লির কনট প্লেসে সিজেপির ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির আগেও পুলিশ এ ধরনের জমায়েতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেয়। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির বিরুদ্ধে আদালতে নির্দেশ জারির আবেদন জানানো হয়।
এবার পুলিশের আবেদন খারিজ করে, কোর্ট কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ককরোচ জনতা পার্টিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেন ভারতের হাইকোর্ট। তবে আদালত জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দিল্লি পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। সমাবেশে বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে তারা আইনানুগ সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এরপর দিল্লির অন্যতম ব্যস্ততম এ ট্রানজিট পয়েন্টে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিক্ষোভ সমাবেশ বিকেল ৫টা নাগাদ হওয়ার কথা রয়েছে। দলের অন্যতম দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির প্রতিবাদে এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে।
আরেকদিকে, বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, গত ১৫ দিনে দিল্লির রাস্তা থেকে অনেক তরুণকে আটক করা হয়েছে। তার অভিযোগ, এই দমন-পীড়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘আমি দেশের যুবক, ছাত্র এবং দেশপ্রেমিকদের ১৬ অক্টোবর, বিকেল ৫টায় ভারতের ত্রিবর্ণ পতাকা ওড়ানোর জন্য অনুরোধ করতে চাই। আমরা বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে তিন রঙের পতাকা ওড়াব। যারা দিল্লিতে আসতে পারবেন না, তারা নিজ নিজ শহর ও জেলায় বিকেল ৫টায় ভারতের পতাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসুন। ভারতের পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এই স্বৈরশাসককে আমাদের এটা স্পষ্ট করে দিতে হবে।’
সিজেপির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে ভারতীয় সমাজকর্মী ও আইনজীবী প্রশান্ত প্রশান্ত ভূষণ দেশের শাসন পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরা, সমাজকর্মী ও ওভীণেটা প্রকাশ রাজ সিজেপির নেতাসহ বেশ কয়েকজন তরুণের আটকের নিন্দা জানিয়েছেন। দীপকে তরুণ, শ্রমিক গোষ্ঠী ও কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে এ আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতীয় সমাজকর্মী ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, ‘এখন এই সরকার বলছে, এটি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের অভিযান। বিরোধী দল শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চায়। আমরা নির্বাচন ব্যবস্থা সংশোধনের চেষ্টা করছিলাম। আমরা তাদের কাছে ফের নির্বাচনি গণতন্ত্র চালুর অনুরোদ করেছিলাম। কিন্তু সরকার যদি এমন বর্বরতা দেখাতে থাকে, তাহলে শাসনব্যবস্থা অবশ্যই বদলে যাবে। হ্যাঁ, আমরা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চাই।’
এদিকে, নয়া দিল্লি প্রশাসনের নির্দেশে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সাধারণ মানুষের জন্য কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কনট প্লেস ও আশপাশের এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঐ এলাকার মেট্রো স্টেশনগুলো ও সড়কে কড়া নজরদারি ও ট্রাফিক বিধিনিষেধ জারি হয়েছে।





