ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড—করিডোর আর বারান্দাজুড়ে রোগীদের ভিড়। শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকেই মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। এতে বাড়ছে ঝুঁকি, বেড়েছে ভোগান্তি। একটি শয্যায় গাদাগাদি করে রাখতে হয় ২ থেকে ৩ জন শিশু। এতে সংক্রমণের আশঙ্কা যেমন বাড়ে, তেমনি দুর্বিষহ হয়ে ওঠে চিকিৎসা পরিবেশ।
রোগীর স্বজনরা জানান, একটা সিটের মধ্যে দুইজন-তিনজন রোগী হয়। খুব কষ্ট করে থাকা লাগে। যদি সিটের সংখ্যা বাড়তো বা আলাদা একটা শিশু হাসপাতাল থাকত, তাহলে আরও অনেক ভালো হতো।
চাপের চিত্র আরও ভয়াবহ সংখ্যায়। ২০২৫ সালে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার শিশু। একই সময়ে নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তির সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার। ৭০ শয্যার বিপরীতে এখানে প্রতিদিন ভর্তি থাকে প্রায় সাড়ে চারশো শিশু। এমন পরিস্থিতিতে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক ও নার্সদের।
আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. জামশেদ আলম বলেন, ‘মেঝেতে তাদের থাকতে হয়। যদি একটা বেডের বিপরীতে পাঁচজন রোগীকে চিকিৎসা করতে হয়, তাহলে এটা আমাদের জন্য কতটা দুরূহ বুঝতে পারছেন। আর একটা বিষয় হলো আমাদের যে লজিস্টিক বা ম্যানপাওয়ার, সেটা এই রোগীর বিপরীতে অপ্রতুল।’
দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ শুরু করতেই লেগে যায় ছয় বছর।
শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে শুরু হলেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। এতে থমকে যায় নির্মাণ কাজ। তবে সম্প্রতি আবারও চালু হয়েছে প্রকল্পটি। নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে আগের ঠিকাদারকেই দেয়া হয়েছে কার্যাদেশ।
ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইফতেখার আলম বলেন, ‘নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং সেই আলোকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে ১২ তারিখে। এপ্রিলের ১২ তারিখে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। তো শীঘ্রই আমরা সরজমিনে কাজ শুরু হয়ে যাবে।’
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ভবন বুঝে পেলেই দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ‘শিশু বিভাগের সাথে কথা বলে এবং প্রশাসনের সাথে কথা বলে যেভাবেই হোক, জনবল সৃষ্টি হোক না হোক, আমাদের মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা যেভাবেই হোক এই শিশু হাসপাতালের আউটডোরের কাজটা শুরু করে দেব।’
প্রস্তাবিত ১০তলা বিশিষ্ট ২০০ শয্যার এই শিশু হাসপাতাল নির্মাণ শেষ হলে এ অঞ্চলের শিশু চিকিৎসায় যোগ হবে নতুন মাত্রা।




