লোডশেডিংয়ে অচল চট্টগ্রাম; বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বিপর্যস্ত জনজীবন থেকে শিল্প

লোডশেডিংয়ে অচল চট্টগ্রাম
লোডশেডিংয়ে অচল চট্টগ্রাম | ছবি: এখন টিভি
0

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। কোনো কোনো এলাকায় দিন রাতের অর্ধেক সময়ই থাকে না বিদ্যুৎ। জনজীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে সবই। কর্তৃপক্ষ বলছে, চট্টগ্রামে ২৮টি বিদুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৯টিরই উৎপাদন বন্ধ, এতে দিনে চাহিদার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাচ্ছে বন্দর নগরী।

টানা চার ঘণ্টার লোডশেডিং আর তীব্র তাপপ্রবাহে নাজেহাল জনজীবন। এক চিলতে বাতাসের আশায় দোকানির শেষ ভরসা ছিল ছোট্ট রিচার্জেবল ফ্যানটি। কিন্তু সেই স্বস্তিও ফুরিয়ে এলো দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায়। তীব্র গরম আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চট্টগ্রামের মানুষের এই হাহাকার এখন নিত্যদিনের।

দিনরাত মিলিয়ে নগরে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন শপিং মল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা সচল রাখতে গিয়ে বাড়ছে পরিচালনা ব্যয়। অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটরও দীর্ঘক্ষণ ব্যাকআপ দিতে পারছে না। এতে নষ্ট হচ্ছে খাদ্য পণ্য।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। যারা নতুন উদ্যোক্তারা আছেন তারা এ কারণে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন।

বিদ্যুৎ সংকটের আঁচ লেগেছে চট্টগ্রামের ভারী শিল্প এলাকাগুলোতেও। নাসিরাবাদ, বিসিক ও সীতাকুণ্ড এলাকার ছোট-বড় কারখানায় উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে। রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোতে সময়মতো শিপমেন্ট দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

আরও পড়ুন:

বিজিএমইএ সাবেক ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ এনার্জি ক্রাইসিসে পড়ে গেছে এ ধরনের পারসেপশন কাস্টমারদের কাছে হয়ে গেছে। এখন এ ক্রাইসিস থেকে উত্তোলনের জন্য কোনো প্রমাণ দিতে পারছি না।’

চট্টগ্রামে মোট ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে গ্যাস, জ্বালানি সংকটে বন্ধ রয়েছে ৯টি কেন্দ্র। এরমধ্যে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পানি স্বল্পতায় পাঁচ ইউনিটের চারটিই এখন বন্ধ।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় পানি সম্ভবত দশমিক ২৩ করে কমছে। ১৭ ফিটের নিচে নেমে গেলে মেশিন চালাতে পারবো না।’

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১২০০ থেকে ১৩০০ মেগা ওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে মিলছে ১০০০ থেকে ১১০০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রেশনিং করে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করছে বিদ্যুৎ বিভাগ ।

এফএস