চারপাশে থৈ থৈ পানি, মাঝে মধ্যেই ভারি বর্ষণ। দিনভর সূর্যের কড়া তাপের মধ্যেই পুশ ইন জীবন। দুই পাশে অস্ত্র হাতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, মাঝখানের ছোট্ট জমির আলই হয়ে উঠে শামসুল আলমের দুই সন্তান ও স্ত্রীর ঘরবাড়ি। চারপাশে খোলা আকাশ আর বিস্তীর্ণ মাঠ হলেও ওরা যেন বন্দি। নারী ও শিশুসহ ১০ জনের এভাবেই পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে কেটে যায় ৭০ ঘণ্টা। তারপরে বিএসএফ মধ্যরাতে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তাদের।
স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘এক কথা মুসলিমদেরকে পুশ ইন করতেছে। এদের অপরাধটা কী?’
মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব সরকার বলেন, ‘জোরপূর্বক রাতের আঁধারে মানুষদেরকে ঠেলে দেয়া, এটা কোনোভাবে যেমন আইনসিদ্ধ নয়, তেমনই মানবাধিকারের পরিপন্থী।’
পঞ্চগড় হাড়িভাসা ইউপির চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম বলেন, ‘তারা যদি এটি প্রমাণ করতে পারে যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক এবং অবৈধভাবে ইন্ডিয়ায় বসবাস করে থাকে, তবে সেটার একটা আইনকানুন গত একটা ব্যবস্থা রয়েছে।’
আরও পড়ুন:
কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা ১০ জনকে ভারতীয় পুলিশ আটক করে, গত শুক্রবার ভোরে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। আর নো-ম্যান্স ল্যান্ডেই আটকে দেয় বিজিবি। তারপর থেকেই শুরু এদের অনিশ্চয়তার জীবন। তারপর তিন দিন চলে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক। এ মানুষগুলোর অপেক্ষায় দিন পার করা বাংলাদেশের স্বজনরা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরানোর দাবি জানান।
স্বজনদের মধ্যে একজন বলেন, ‘তারা যে তিন দিন থেকে যে কষ্ট করলো, এটা হচ্ছে বিএসএফের একমাত্র খামখেয়ালির কারণে।’
অন্য একজন বলেন, ‘১০ জনের মধ্যে চারজন আমার মামার পরিবার।’
বাংলাদেশি নাগরিক হলে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত নিতে রাজি বিজিবি। তবে পুশ ইন কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি বিজিবি কর্মকর্তার।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের পজিশনটাকে স্পষ্ট করেছি যে আমরা এভাবে কাউকে গ্রহণ করব না। তারা যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকে, প্রপার প্রসিডিউর অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল ল অনুযায়ী তারা আমাদেরকে পাঠালে পরে আমরা তাকে গ্রহণ করবো।’
পুশ ইন নয় অবৈধ অভিবাসী থাকলে তা দুই দেশের শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি চান স্থানীয়রা।




