টাঙ্গাইলে ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ৯

পুলিশি হেফাজতে গ্রেপ্তার আসামিরা
পুলিশি হেফাজতে গ্রেপ্তার আসামিরা | ছবি: এখন টিভি
0

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির লুণ্ঠিত তেল, ট্রাক, চুরিকৃত মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ (শুক্রবার, ৬ মার্চ) দুপুরে পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন— গাজিপুরের কালিয়ককৈরের কালামপুর এলাকার মো. মহিউদ্দিন (৪৪), একই উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ দিঘীরপাড় বটতলা এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম (৪৪), ময়মনমিংহের তারাকান্দা মধ্যপাড়ার মো. ইমলান হোসেন (৩০), মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার খাইলারচর গ্রামের ইসমাইল হোসেন (২৯), ঢাকার নবাবগঞ্জের মেলেং গ্রামের মো. মনির হোসেন (২৫), টাঙ্গাইল শহরের আদালতপাড়া এলাকার মো. সাগর আলী (২৮), মো. পনির (২৭), আনিছুর রহমান আনিছ, মো. জাহিদ হোসেন (৩০), ধামরাই উপজেলার চৌহাট গ্রামের বিপ্লন হোসেন হৃদয় (২৫)।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যুমনা সেতু মহাসড়কের রসুলপুর এলাকায় ১১টি গরুভর্তি একটি ট্রাকে ডাকাতি হয়। এ ঘটনায় ঢাকার গরু ব্যবসায়ী গোলাম রাব্বী টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে ইসমাইল ও মনিরকে হেমায়েতপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। তাদের গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ) আদালতে পাঠালে বিচারক তিনদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন:

এসময় তারা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরের কুরনী এলাকায় ৬৩ ডাম সুপার ও সয়াবিন তেলের ডামে ডাকাতি হয়। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম ১ মার্চ মির্জাপুর থানায় মামলা করেন।

এ ঘটনায় মহিউদ্দিন ও রফিকুল ইসলামকে বুধবার কালিয়াকৈর গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্রেতা ইমরান হোসেনকে বৃহস্পতিবার তারাকান্দা বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি ট্রাক, ১৪ ড্রাম সয়াবিন তেল, ১৩ ড্রাম সুপার তেল ও ৩৩টি খালি ড্রাম উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠালে বিচারক তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ জানায়, গত ২২ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি অ্যাপাচি মোটরসাইলে ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সাবালিয়া এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত মঙ্গলবার সাগর ও পনিরকে শহরের আদালতপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠালে বিচারক তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার আনিস ও জাহিদকে কালিয়াকৈরেরর চন্দ্রাগ্রাম বাংলা এলাকা থেকে ও টাঙ্গাইল শহরের কুমুদিনী কলেজগেট থেকে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে চুরিকৃত দুটি ও চুরির কাজে ব্যবহৃদ একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘পুলিশ ও গোয়েন্দা ইউনিটের সার্বিক সহযোগিতা তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্স ব্যবহার করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

এসএইচ