জকসুর ভোট গ্রহণ কাল; নির্বাচন না পেছাতে ছাত্রসংগঠনের হুঁশিয়ারি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা | ছবি: এখন টিভি
0

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কাল। তবে, আর যেন নির্বাচন পেছানোর কোনো ছলচাতুরী না হয়, সে বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোট নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই।

গত ৩০ ডিসেম্বর জকসুর ভোট গ্রহণের দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু খবর এলে নির্বাচন স্থগিত করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বারবার নির্বাচন পেছানোয় সেদিন প্রতিবাদও করে শিক্ষার্থীরা।

নির্বাচন স্থগিতের পেছনে বড় দুটি সংগঠন, ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল একে অপরকে দায়ী করলেও প্রশাসনের দাবি, কোনো পক্ষের চাপে নয়; সিন্ডিকেট সভায় সবার মতামতের ভিত্তিতেই নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

অবশেষে আগামী ৬ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করা হয়। গতকাল (রোববার, ৪ জানুয়ারি) ছিল প্রচারণার শেষ দিন। দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। পুরানো ঢাকার সাড়ে সাত একরের এ ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে—যা শিক্ষার্থীদের আবেগে পরিণত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘আমরা চাই যারা নির্বাচিত হবে তারা যেন আমাদের এ আশা প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারে।’

অন্য আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘সেসব প্রার্থীকেই নির্বাচিত হিসেবে দেখতে চাই যারা, আসলে নির্বাচিত হওয়ার পর জগন্নাথের জন্য কাজ করবে।’

ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা বলছেন, আর কোনো টালবাহানা নয় ৬ জানুয়ারিতেই হতে হবে নির্বাচন। জকসু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি। সেই জায়গা থেকে ৬ তারিখ ডু অর ডাই।

আরও পড়ুন:

ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসন যদি ৬ তারিখ নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের আশা আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে যে অবস্থান, সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে এ ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা প্রশাসনের নেই।’

ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, ‘এ ৬ তারিখের পর আর কোনো টালবাহানা হবে না।’

ছাত্রশক্তি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান প্যানেললের জিএস পদপ্রার্থী মো. ফয়সাল মুরাদ বলেন, ‘যদি ইলেকশনের দিন ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়ে যায়, যদি কোনো পোলিং অফিসারকে মারধর করে এ ইলেকশন কমিশন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে কিনা সে বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচন নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

জকসু নির্বাচন কমিশনার মো. জুলফিকার মাহমুদ বলেন, ‘আমরা জকসু নির্বাচন করার ব্যাপারে পুরোপুরি প্রস্তুত। ইলেকশন কমিশনের পক্ষ থেকে সব রকম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। একমাত্র হল সংসদ নির্বাচনে ভোটার ১ হাজার ২৪২ জন আবাসিক শিক্ষার্থী। মোট ৩৯টি কেন্দ্রে স্থাপন করা হবে ১৭৮টি বুথ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ ভোটারের জন্য থাকছে একটি করে বুথ। ভোট গ্রহণ চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

এফএস