ইবিতে জুলাই বিপ্লববিরোধী ৩০ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফ, স্বপদে পুনর্বহাল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় | ছবি: এখন টিভি
1

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লব বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১৯ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর শাস্তি মওকুফ করে তাদের স্বপদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ (বুধবার, ১৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কোনো সিন্ডিকেট সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন— ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম, অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিয়া মো. রাশিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. আক্তারুল ইসলাম জিল্লু, সহযোগী অধ্যাপক ড. আফরোজা বানু, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন, অধ্যাপক ড. সেলীনা নাসরিন, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা।

এছাড়া আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার, অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল, অধ্যাপক ড. শাহজাহান মন্ডল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জয়শ্রী সেন, আল-ফিকহ এন্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম, ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান।

আরও পড়ুন:

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১১জন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন— প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার আলমগীর হোসেন খান, আব্দুল হান্নান, ইব্রাহীম হোসেন সোনা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের এবং কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হাসান মুকুট, একই দপ্তরের আব্দুস সালাম সেলিম, মাসুদুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উকীল উদ্দিন, ফার্মেসি বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম (শিমুল), আইসিটি সেলের জে এম ইলিয়াস, অর্থ ও হিসাব বিভাগের তোফাজ্জেল হোসেন ও জনসংযোগ দপ্তরের আবু সিদ্দিক রোকন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ‘আজকের সিন্ডিকেট সভা শেষ হয়েছে। জুলাই বিরোধীদের বিষয়ে অ্যাজেন্ডা ছিল। রেজুলেশন না হওয়া পর্যন্ত অফিসিয়ালি বলতে পারছি না।’

আগামী ২৪ তারিখ গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত রেজুলেশন আকারে জানিয়ে দেয়া হবে।

এর আগে, গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর নেতৃত্বে শাস্তি নির্ধারণ প্রক্রিয়া চলমান ছিল।

আরও পড়ুন:

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই সময় জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১৯ শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি একই অভিযোগে ৩৩ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এর মধ্যে শিক্ষাজীবন শেষ করা শিক্ষার্থীদের সনদ বাতিল এবং অধ্যয়নরতদের বহিষ্কার করা হয়। ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে গত বছরের ১৫ মার্চ আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি প্রত্যক্ষদর্শীদের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ, তথ্যচিত্র ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

একই ঘটনাবলির সার্বিক পর্যালোচনা ও পুণর্মূল্যায়নের জন্য গত ১৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি রিভিউ কমিটি গঠন করে।

সবশেষ সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি মওকুফ করে পুনর্বহাল করা হলেও, শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সভায় এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

এদিকে ঈদের ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জুলাই আন্দোলন যোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।

এসএস