‘বাভি তাণ্ডবের’ ঝুঁকিতে পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ

ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে ‘বাভি’
ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে ‘বাভি’ | ছবি: এখন টিভি
0

শুধু দেশেই নয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে পুরো দক্ষিণ এশিয়াজুড়েই। গেলো প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড় ‘বাভি’। যা পূর্ব এশিয়ার চীন, জাপান ও তাইওয়ানে তাণ্ডব চালাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির ওপর অবস্থান করায় প্রচুর শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে ‘বাভি’।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় বাভি। ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলের একটি বিখ্যাত পর্বতমালার নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে টাইফুন বাভির। গেলো তিন মাসের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরে দ্বিতীয় শক্তিশালী টাইফুন এটি। যা মূলত গেল ৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ ও গুয়াম অতিক্রম করে। তখন এর গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার। শক্তিশালী ক্রান্তীয় এ টাইফুনের প্রশস্ততম অংশে ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

গেল প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সুপার টাইফুন বাভি পূর্ব এশিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। আবহাওয়াবিদদের মতে, বিশাল আকারের কারণে ঝড়ের কেন্দ্র থেকে অনেক দূরের এলাকাতেও ভারী বৃষ্টিপাত এবং তীব্র বাতাস বয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে উন্মুক্ত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির ওপর অবস্থান করায় প্রচুর শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে টাইফুন বাভি।

টাইফুন বাভি উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণঘাতি হয়ে উঠছে। পূর্ব এশিয়ার তিন দেশ চীন, জাপান, তাইওয়ানের বিভিন্ন অংশে প্রবল বৃষ্টি, প্রচণ্ড বাতাস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি করেছে। শুধু তাই নয় আশপাশের বেশ কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলে তাণ্ডব চালিয়ে যাবে টাইফুন বাভি।

আরও পড়ুন:

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চীন, জাপান ও তাইওয়ান ক্রমেই শক্তিশালী দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়ছে। এ বছর এল নিনোর প্রভাব দেখা দেয়ায় বাড়তে পারে তাপমাত্রা। আর আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন ও শক্তিশালী টাইফুন সৃষ্টি করতে সহায়তা করতে পারে। যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন ও প্রতিবেশী জাপান, তাইওয়ান ক্রমবর্ধমানভাবে ধ্বংসাত্মক দুর্যোগে সম্মুখীন হবে।

চীনা আবহাওয়াবিদরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, স্থলভাগে আঘাত হানার পর বাভি চীনের পূর্ব ও উত্তর প্রদেশগুলোতে প্রবেশ করবে। যার প্রভাবে এসব অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইয়ে যেতে পারে। এতে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি আঘাত হানা টাইফুন মেসাকের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি চীনের বিভিন্ন অঞ্চল। এর প্রভাবে দক্ষিণ চীনে প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ ও গবাদিপশু। বাস্তুচ্যুত কয়েক লাখ বাসিন্দা। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতের।

এসএইচ