বাড়ছে হামের সংক্রমণ; আক্রান্তের অধিকাংশই ঢাকার বাহিরের

হামে আক্রান্ত শিশু
হামে আক্রান্ত শিশু | ছবি: এখন টিভি
0

দেশে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর ডিএনসিসি হাসপাতালে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১০৬ জন শিশু, মারা গেছে একজন। চিকিৎসকদের দাবি, ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় ৭০ শতাংশই ঢাকার বাহিরের। প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সংকট, দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া এবং টিকার বাইরে থাকা শিশুর সংখ্যাই পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে হামের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমনকি বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড চালুর কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে রাজধানীর মহাখালীতে ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালের চিত্র বলছে ভিন্ন বাস্তবতার কথা। কোলে জ্বরাক্রান্ত শিশু, চোখে আতঙ্ক আর দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ছুটে আসছেন অভিভাবকেরা। তাদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না থাকায় বাধ্য হয়েই রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসা পেতে দেরি হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও।

অসুস্থ শিশুর অভিভাবকরা জানান, হাসপাতালে শিশুকে নিয়ে আসার পরও কোনো উন্নতি দেখছেন না তারা। প্রায় ১ মাসের বেশি অসুস্থ থাকার পরও সুস্থ হচ্ছে না শিশু।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এখানে ভর্তি হওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীই ঢাকার বাইরের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুরা দেরিতে হাসপাতালে আসছে। যেখানে অনেক শিশুই এখনো টিকার আওতার বাইরে।

আরও পড়ুন:

মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালের এডমিন অফিসার ডা. আসিফ হায়দার বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাচ্চাগুলো দেখা যাচ্ছে হয়তো খেতে পারছে না। ডিহাইড্রেটেড থাকছে বাচ্চাগুলো, একদমই খেতে পারছে না। সঙ্গে হচ্ছে সর্দি, কাশি, কারো কারো শ্বাসকষ্টও থাকছে। ঢাকার ভেতর থেকে যে রোগীগুলো আসছে সেগুলো মোটামুটি আমাদের আর্লি আমরা আসতে পারছি। বাট ঢাকার বাইরে থেকে যে রোগীগুলো আসছে তারা বেশিরভাগই দেখা যাচ্ছে একটু দেরিতেই আসছে আমাদের কাছে।’

চিকিৎসকরা আরও বলছেন, টিকা নেওয়া থাকলেও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘একটি বাচ্চাকে টিকা নেওয়ার পরে তার শরীরে ইমিউনিটি তৈরি হতে সময় লাগে তিন থেকে চার সপ্তাহ বা তারও বেশি লাগতে পারে। কিন্তু সেটা কতটুকু করবে, কতটুকু সময়ের মধ্যে এটা হবে এবং কত পারসেন্ট মানে কতটুকু মাত্রায় এটা হবে তা কিন্তু অনেক ফ্যাক্টরের ওপর ডিপেন্ড করে। এর মধ্যে সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট ফ্যাক্টর হচ্ছে তার পুষ্টি। পুষ্টিহীন যদি বাচ্চাটি অপুষ্ট থাকে, তাহলে সে বাচ্চাটি কিন্তু একটি টিকা দেয়ার পরেও তার যে কাঙ্ক্ষিত যে ইমিউনিটিটা, যে প্রোটেকশনটা পাওয়ার কথা, সেই প্রোটেকশনটা কিন্তু তৈরি নাও হতে পারে।’

ডিএনসিসি হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে একজন শিশুর মৃত্যুও হয়েছে।

এফএস