টঙ্গীতে অস্ত্র উঁচিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া; যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অস্ত্র উঁচিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া
অস্ত্র উঁচিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া | ছবি: সংগৃহীত
0

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক এলাকায় ঝুট (কারখানার বর্জ্য) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অস্ত্র উঁচিয়ে মোটরসাইকেল মহড়ার ঘটনায় বিএনপি ও যুবদলের ১৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত দু’দিনে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ (বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই) টঙ্গী পূর্ব থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান জামান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিসিক শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বাদী নুরুজ্জামান জামান। গত ২৭ জুন তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বুলু ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মো. খালেক।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন ২৮ জুন অভিযুক্তদের নেতৃত্বে শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে এলাকায় অস্ত্রসহ মহড়া দেয়া হয়। এসময় কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ঝুট বিক্রি না করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যবসা দখলের চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। শিল্পাঞ্চলের প্রধান সড়কে বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে চলাচল এবং অস্ত্র প্রদর্শনে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রথম দফায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার দিবাগত রাতে অভিযানে আরও আটজনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে কারা মহড়ায় অংশ নিয়েছিল এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা যাচাই করা হচ্ছে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন:

এদিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলের কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাম্প্রতিক এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা শিল্পাঞ্চলে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মামলায় প্রধান অভিযুক্ত টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলের বক্তব্য জানতে একাধিক বার কল দেয়া হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এরইমধ্যে আমরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় যুবদলকে জানিয়েছি। তারা তদন্ত করে দেখছেন। যুবদলের কারও এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় যুবদল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’

এসএস