আজ (রোববার, ২৬ এপ্রিল) সরকারি ছুটির দিন। ফলে সকাল থেকেই একদিকে যেমন প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে প্রচারের ময়দানে নেমেছেন, দ্বারে দ্বারে গিয়ে জনসংযোগ করছেন, তেমনি প্রার্থীদের সমর্থনে তারকা ক্যাম্পেইনাররাও পথে নেমেছেন।
এদিন, বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে রাজ্যে নির্বাচনি প্রচারণা উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, ভোজপুরি সিনেমার অভিনেতা ও বিজেপি সাংসদ রবি কিষান প্রমুখ।
অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে একাধিক প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, মমতার ভাতিজা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি, টলিউড অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব), টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বিহারের সাবেক উপ মুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, বলিউড অভিনেত্রী মন্দাকিনী, হাওড়ার তৃণমূল প্রার্থী ডাক্তার রানা চ্যাটার্জি রোড সমর্থনে রোড শো'তে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন।
নির্বাচনি প্রচারণায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আগে মা মাটি মানুষের স্লোগান দিয়ে তৃণমূল সরকারে এসেছিল। কিন্তু এখন এদের মুখ থেকে মা মাটি মানুষ শব্দ বের হয় না। তৃণমূলের নির্মমতার কারণে মায়ের চোখে এখন পানি, মাটিকে সিন্ডিকেট ও অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে, এবং বাংলার মানুষকে পালানোর জন্য বাধ্য করেছে। এ সরকারের আমলে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় একের পর এক শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কেবলমাত্র একটাই দোকান খোলা রয়েছে- তা হলো সিন্ডিকেট ও কমিশন। ফলে এ সরকারকে পাল্টাতেই হবে।’
বনগাঁর মাটি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে বাংলায় এসেছে, যারা ভুয়া নথি নিয়ে এখানে বসবাস করছে, তারা যেন ২৯ এপ্রিলের আগেই বাংলা ও দেশ ছেড়ে চলে যায়। না হলে ৪ মে'র পর প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেয়া হবে। তৃণমূল কোনো অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে পারবে না।’
প্রথম দফায় ৯৩ দশমিক ১৯ শতাংশ ভোট পড়া নিয়ে মোদি বলেন, ‘প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলা কামাল করে দিয়েছে।’
তার অভিমত, প্রথম দফার নির্বাচনে তৃণমূলের অহংকার ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বিজেপির সরকার নিশ্চিত হতে যাচ্ছে।
মোদি এও বলেন, ‘বাংলার তরুণ তরুণ তরুণীদের তৈরি করা মিউজিক ভিডিও, ওদের বানানো আর রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুবই প্রশংসিত হচ্ছে। কিছু কিছু রিল তো আমি নিজেও দেখেছি। ঝাল মুড়ি থেকে যার এত ঝাল লাগতে পারে, তার তরুণ প্রজন্মের এ সৃষ্টিশীলতা পছন্দ হবে না। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসলে এ সৃষ্টিশীলতাকে বাংলার শক্তিতে পরিণত করবে।’
জগদ্দল আসনের তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তার হয়ে প্রচারণায় ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী মন্দাকিনী। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর প্রচারে সাধারণ মানুষের উৎসাহ দেখে মন্দাকিনী বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। যা হবে ভালো কিছুই হবে। অমিত গুপ্তাকে সমর্থন জানাতে আমি এখানে এসেছি। এত সুন্দর পরিবেশ এত সুন্দর জনগণের উৎসাহ দেখে মনে হচ্ছে উনি জিতে যাবেন।’ এরপর জয় বাংলা স্লোগান দিতেও দেখা যায় মন্দাকিনীকে।
মধ্যমগ্রাম বিজেপি প্রার্থী অনিন্দ্য রাজু ব্যানার্জির হয়ে প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেখানে একের পর এক ছবির ডায়লগ বলে উপস্থিত জনতার মন জয় করেন বলিউড অভিনেতা। এদিকে ভবানীপুর আসনে তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জির পাঁচটি নির্বাচনি কর্মসূচি রয়েছে। এরমধ্যে একটি পদযাত্রা, বাকিগুলি জনসভা।
ক্যামাক স্ট্রিটের বরদান মার্কেটে একটি সভা থেকে মমতা বলেন, ‘প্রথম দফার নির্বাচনে আমরা সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছি। পরবর্তী দফায় আমরা আরেকটি সেঞ্চুরি করবো। এ কারণে বিজেপি ভয় পেয়ে গেছে। আর যারা ভয় পায় তারা মরে যায়। এ কারণেই ওরা কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে গুন্ডাগিরি করছে।’
ভোটারদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা, ‘আপনারা আমার ওপর বিশ্বাস রাখুন, ভরসা রাখুন। আমরা ২০১৪ সাল থেকে রয়েছি। আপনারা কখনো দেখেছেন, যে এখানে কোনো অসুবিধা হয়েছে?’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আগে দিল্লি সামলাক, তারপরে বাংলার দিকে তাকাবে। কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে যখন পাকিস্তান হামলা করল, তখন সেখানে সাঁজোয়া গাড়ি কেন পাঠানো হলো না? আর বাংলায় ২ লাখ পুলিশ সদস্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওরা কেবল বেছে বেছে তৃণমূলের কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
মমতার দাবি, ‘এখানে আমি কোন ভেদাভেদ করি না। এটা হচ্ছে মিনি ইন্ডিয়া। আমি সকল ধর্মের মানুষকে ভালোবাসি। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইল। সবাই মিলে একসঙ্গে থাকাটাই বাংলার পরম্পরা ঐতিহ্য।





