২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই দেশটির বিভিন্ন শহরে হামলা চালাচ্ছে মস্কো। এর মধ্যে মঙ্গলবার হয়ে গেল এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ৫৫৬টি ড্রোন ছোঁড়া হয়। কিয়েভ বলছে, দিনেদুপুরে এমন ব্যাপক পরিসরে হামলা বিরল। এসময় পশ্চিম ইউক্রেনের ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক শহরে দুজন এবং ভিনিতসিয়া অঞ্চলে একজন নিহত হন আর আহত হন কয়েক ডজন মানুষ। এছাড়া দেশটির একটি হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ষোড়শ শতাব্দীর বার্নারডাইন মঠ। যা ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য
মস্কোর স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এটা খুবই ভয়াবহ। আমরা এই ভবনটির পেছনে কাজ করি এবং সবকিছু দেখেছি। ঐতিহাসিক কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া দুঃখজনক। আশা করি যুদ্ধ শেষ হলে সবকিছু পুনর্নির্মাণ হবে। এটা পাগলামি। ইউনেস্কো স্বীকৃত স্থান হিসেবে বার্নারডাইন মঠ নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত সুন্দর জায়গা। আর ঠিক এর কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত করা হচ্ছে। এটা একেবারেই অযৌক্তিক।
আরও পড়ুন:
এর আগে সোমবার রাতে রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় রাশিয়া। ঐ হামলায় ৩৯২টি ড্রোন ও ৩৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। রাতভর এ হামলায় ৫ জন নিহত হয়। সব মিলিয়ে রাশিয়া সোমবার সন্ধ্যা থেকে ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনে প্রায় ১ হাজার দূরপাল্লার ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানায় কিয়েভ। তবে রাশিয়ার বেশিরভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর।
রাশিয়ার এই তীব্র হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দাবি, এই হামলার মাধ্যমে এটা স্পষ্ট, যুদ্ধ শেষ করার কোন ইচ্ছা মস্কোর নেই।
এই হামলার ব্যাপকতা পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দেয় যে, এই যুদ্ধ শেষ করার কোনো প্রকৃত ইচ্ছা রাশিয়ার নেই। রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত ও জোরালো চাপ প্রয়োগ না করলে, মস্কোতে তাদের কোনো দৃশ্যমান ক্ষতি না হলে, যুদ্ধ থেকে সরে আসার কোনো ইচ্ছাই তাদের মধ্যে জন্মাবে না।
এদিকে, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে মস্কো। দেশটির সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত ও খারকিভ অঞ্চলের বসতিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি তাদের। মস্কো জানিয়েছে, ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি ব্যবস্থা বিশেষ করে তেল শোধনাগার, ডিপো এবং পরিবহন টার্মিনালে হামলা চালিয়েছে। ৪২টি ড্রোন ধ্বংসের কথা জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।





