ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ট্রাম্পবিরোধী 'নো কিংস' বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ট্রাম্পবিরোধী 'নো কিংস' বিক্ষোভ | ছবি: রয়টার্স
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে গতকাল  (শনিবার, ২৮ মার্চ) ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। ইরান যুদ্ধ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদ করা হয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে শুরু করে আইডাহোর ছোট শহর ড্রিগস পর্যন্ত। কর্মসূচিতে সেন্ট পলে মিনেসোটা ক্যাপিটল ভবনের সামনে ও আশপাশের সড়কে হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ কেউ উল্টো করে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ধরেছিলেন, যা ঐতিহাসিকভাবে সংকট বা বিপদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এনডিটিভি ও বিবিসি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুসারে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। এর মধ্যে ইরান যুদ্ধ, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি কথা উল্লেখ করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিসিবির প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে এসেছে।

আয়োজকেরা বলেন, ‘ট্রাম্প আমাদের ওপর স্বৈরাচারী হিসেবে শাসন করতে চান। কিন্তু এটা আমেরিকা; ক্ষমতা জনগণের—ভুয়া রাজা বা তাদের কোটিপতি ঘনিষ্ঠদের নয়।’

হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বিক্ষোভগুলোকে ‘ট্রাম্প ডিরেইনজমেন্ট থেরাপি সেশনস’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে যারা আগ্রহী, তারা শুধু কভার করার জন্য টাকা পাওয়া রিপোর্টাররা।’

গতকাল  (শনিবার, ২৮ মার্চ) সারাদিন নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ প্রায় সব বড় শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির ডাউনটাউন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা মিছিল করেন; লিঙ্কন মেমোরিয়ালের সিঁড়িতে অবস্থান নেন এবং ন্যাশনাল মল এলাকায় জড়ো হন। আগের মতো এবারও বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতিকৃতি প্রদর্শন করেন এবং তাদের অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

গতকাল  (শনিবার, ২৮ মার্চ) এর অন্যতম প্রধান কর্মসূচি ছিল মিনেসোটায়। জানুয়ারিতে সেখানে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে দুই মার্কিন নাগরিক রেনি নিকোল গুড এবং অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এই ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন কৌশল নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। গতকাল (শনিবার, ২৮ মার্চ) সেন্ট পলে অঙ্গরাজ্যের ক্যাপিটল ভবনের বাইরে অনেকে বক্তব্য দেন। ব্রুস স্প্রিংস্টিনও সেখানে মঞ্চে ওঠেন এবং ‘স্ট্রিটস অব মিনিয়াপলিস’ গান পরিবেশন করেন।

নিউ ইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারেও অনেকে জড়ো হন এবং ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকায় মিছিল করেন। ভিড় সামলাতে পুলিশ ব্যস্ত সড়ক বন্ধ করে দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরে নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছিল, শহরে ১ লাখের বেশি মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। বিক্ষোভের সময় কিছু স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

ডিএইচএস এক্সে দেয়া বিবৃতিতে বলে, রয়বাল ফেডারেল ভবনের সামনে তারা যাদের ‘১ হাজার দাঙ্গাকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, এমন একটি দল তাদের ঘিরে ধরে এবং ডিএইচএস সদস্যদের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়ে। এতে দুজন কর্মকর্তা সিমেন্টের ব্লকে আঘাত পান এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) বলেছে, একটি ফেডারেল কারাগারের কাছে ছত্রভঙ্গের নির্দেশ না মানায় ‘একাধিক’ গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিড় সরাতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ‘অপ্রাণঘাতী ব্যবস্থা’ ব্যবহার করেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ডালাসেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানে পাল্টা-বিক্ষোভকারীরা সড়ক আটকে দিয়ে ‘নো কিংস’ মিছিল ব্যাহত করলে ‘সামান্য ধাক্কাধাক্কি’ হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরে সবশেষ ‘নো কিংস’ কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করলেও আয়োজকেরা বলছেন, কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদের একটি অংশও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। প্যারিস, লন্ডন ও লিসবনে কর্মসূচিতে কেউ কেউ ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে উল্লেখ করেন এবং তার অভিশংসন ও পদত্যাগের দাবি তোলেন।

এএম