দু’দিনের বিতর্কপর্ব শেষে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ভারতের সংসদে নারী সংরক্ষণ ও লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশে ব্যর্থ হয় ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। এর পর থেকেই কংগ্রেস, তৃণমূলসহ বিরোধীদলগুলোকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে শাসকদল বিজেপি।
এবার বিরোধীদের সমালোচনায় সরব হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল (শনিবার, ১৮ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ায় ভারতবর্ষের নারীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া এনডিএ জোট নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘এবারও কংগ্রেস জোট নারী সংরক্ষণকে থামাতে একের পর এক নতুন মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু আমি জানি, দেশের শতভাগ নারীদের আশির্বাদ আমাদের সঙ্গে আছে। আমি দেশের প্রতিটি নারীকে আশ্বস্ত করছি, আমরা নারী সংরক্ষণের পথের সব বাধা শেষ করেই ছাড়বো।’
এদিকে দিল্লি ছাপিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণাতেও স্থান পেয়েছে ডিলিমিটেশন ইস্যু। হাওড়ার একটি নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায় দাবি করেন, লোকসভায় পরাজিত হয়েছে কেন্দ্রের শাসকদল। জনসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে ফের বাংলা ভাষাভাষীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন মমতা।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘সব বাংলার মানুষ বাইরে গেলে, বাংলা ভাষায় কথা বললে, তোমরা তাদের ওপর অত্যাচার করো; তোমরা তাদের মারো, খুন করো; মাছ-মাংস-ডিম খেতে দাও না তোমাদের রাজ্যে। আমি সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করি। আমার এখানেও অনেক পরিযায়ী শ্রমিক আছে। আমি তাদের বুকে আশ্রয় দিয়ে রেখে দেই, কখনও অসম্মান করি না।’
এসময় মমতা আগাম অভিযোগ করেন, ফল ঘোষণার পর তৃণমূল হারিয়ে দিতে চক্রান্ত করতে পারে নির্বাচন কমিশন। তবে তার বিশ্বাস, দিন শেষে আগের চেয়েও বেশি আসনে জয় পাবে তৃণমূল।
এদিকে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে কালিম্পংয়ে নির্বাচনি প্রচার এসে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ফের অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতা সরকারকে তুলোধুনো করেন। জানান, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে সব অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়িত করা হবে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আমরা টিএমসিকে ভোট দেবো, কিন্তু বাংলার মাটিও আমাকে দিতে হবে, বাংলার ওপর অধিকারও আমাকে দিতে হবে।—এতে মমতা বলেন, ঠিক আছে, তোমাদেরও চলুক-আমাদেরও চলুক।’
নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই ভোটের মাঠে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় রুপালি জগতের স্টাররাও। অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক ও ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার আজহারউদ্দিন ও ইউসূফ পাঠানসহ একঝাঁক তারকা যোগ দিয়েছেন নির্বাচনি প্রচারণায়।





