২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে করোনা-পরবর্তী সময়ে পর্যটন খাতের মাধ্যমে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ৯৩টি দেশের নাগরিকদের জন্য ৬০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া থাকার সুযোগ দিয়েছিল থাইল্যান্ড। তবে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান ভিসা ব্যবস্থার জটিলতা দূর করতে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো দেশটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে সম্প্রতি বেশ কিছু বিদেশি নাগরিক মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমাদের নীতিটি আরও উপযোগী করে তোলা প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে।’ এই ৬০ দিনের সুযোগ ভোগ করা দেশগুলোর তালিকায় অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের নামও রয়েছে। তবে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশভেদে এই মেয়াদ কত দিন হবে তা পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
নতুন এই নিয়মটি সরকারি গেজেটে প্রকাশের ১৫ দিন পর থেকে কার্যকর হবে। থাইল্যান্ড এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এবং দেশটির অর্থনীতির একটি বড় অংশ পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। ২০১৯ সালে থাইল্যান্ডে প্রায় ৪ কোটি পর্যটক এসেছিলেন। করোনা মহামারির পর গত দুই বছরে সেই সংখ্যা আবারও বাড়তে শুরু করেছে এবং চলতি বছরের এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ দেশটি ভ্রমণ করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদেশি পর্যটকদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা থাই সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে বেশ কিছু ব্রিটিশ নাগরিককে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া গত এপ্রিলে ব্যাংককে অনুমোদনহীন একটি আন্তর্জাতিক স্কুলে অভিযান চালিয়ে ১০ জন বিদেশিকে আটক করে পুলিশ, যারা কোনো ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই সেখানে কাজ করছিলেন।





