আদালত মেটার ওই আবেদন খারিজ করে দিয়ে জানায়, প্রতারণা, অন্যায্য চর্চা এবং ফেডারেল ‘চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের দায়ে মেটার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলবে। বিচারক আরও উল্লেখ করেন যে, মেটা শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইনের নোটিশ এবং মা-বাবার সম্মতির প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মানতে ব্যর্থ হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা এই সিদ্ধান্তকে মার্কিন শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের জন্য মেটাকে দায়ী করার ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলো দাবি করেছে, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ফলে শিশুদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এবং আত্মহত্যার মতো প্রবণতা বাড়ছে। মেটা জেনেশুনে এসব ক্ষতিকর দিক জনসমক্ষে গোপন করেছে বলেও তারা অভিযোগ আনে। অন্যদিকে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষায় দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে আসছে এবং আদালতে সত্য প্রমাণিত হবে বলে তারা আশাবাদী।
মেটা আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি’ কোনো প্রতিষ্ঠিত মানসিক রোগ নয়, তাই তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো আসক্তিময় নয় বলে তারা যে বক্তব্য দিয়েছে তা মিথ্যা হতে পারে না। এছাড়া তারা দাবি করে যে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম কেবল ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য নয় বরং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি।
তবে বিচারক রজার্স তার ৩৮ পৃষ্ঠার রায়ে বলেছেন, মেটা তার প্ল্যাটফর্মগুলোকে কিশোর-কিশোরীদের জন্য বাধ্যতামূলক ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করেনি—এমন দাবির সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক ও তথ্যের গরমিল রয়েছে। আগামী ১৮ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি এবং নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের করা এই অভিযোগগুলোর ওপর বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।





