তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেঘ মোতামাদিয়ান জানিয়েছেন, প্রয়াত নেতার বিদায় অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শনিবার ভোর ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেয়া হবে। জনগণকে এর আগে সেখানে না আসার অনুরোধ করেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই এবং এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ সাদেঘ আমোলি লারিজানিসহ শীর্ষ নেতারা এই শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা তেহরানে সমবেত হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এমোমালি রহমন, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল খেরেইজি এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। ভারতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মারঘেরিতা এবং বিহারের গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ছাড়াও অন্তত ৮ জন সরকারপ্রধান এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। প্রায় ১০০টি দেশ থেকে বিভিন্ন খাতের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অংশ নিচ্ছেন। তবে যেসব ইউরোপীয় দেশ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনকে সমর্থন করেছিল, তাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, কয়েক দিনব্যাপী এই জানাজায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হবে। খামেনির মরদেহ শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে এবং সোমবার শহরের কেন্দ্র দিয়ে বিশাল শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কোম, ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার শেষে আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। এই বিশাল আয়োজন উপলক্ষে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের সড়ক ও আকাশপথে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।





