গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া। তার আগে ওরেগন। ওয়াশিংটন স্টেট। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে যখনই ভয়াবহ দাবানল হয়েছে, তখনই সীমান্ত পেরিয়ে ছুটে গেছেন কানাডার দমকলকর্মীরা। পাঠানো হয়েছে ওয়াটার বোম্বার বিমান, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি সহায়তা। দুর্যোগের সময়ে প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো- উত্তর আমেরিকায় এটাই ছিল বহু বছরের বাস্তবতা।
কিন্তু এবার সেই কানাডাই ইতিহাসের অন্যতম কঠিন দাবানল মৌসুম পার করছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শুনতে হচ্ছে রীতিমতো ভর্ৎসনা।
গোটা কানাডায় সক্রিয় ৯০০-এর বেশি দাবানল। এর মধ্যে দুই শতাধিক আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অন্টারিও, ম্যানিটোবা, সাসকাচেওয়ান, আলবার্টা ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়া। কয়েক সপ্তাহ ধরেই হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ বছরই পুড়ে গেছে কয়েক মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি, যা অনেক দেশের মোট আয়তনের চেয়েও বড়।
সার্বিকভাবে আগুনের সঙ্গে লড়ছে কানাডা। আর ধোঁয়ার সঙ্গে লড়ছে উত্তর আমেরিকা। জেট স্ট্রিম আর অনুকূল বায়ুপ্রবাহে দাবানলের ধোঁয়া ভেসে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব, মধ্য-পশ্চিম এবং গ্রেট লেকস অঞ্চলে। নিউইয়র্ক, মিশিগান, মিনেসোটা, উইসকনসিন, ইলিনয়, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া এমনকি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতেও জারি হয়েছে এয়ার কোয়ালিটি অ্যালার্ট। কোথাও কোথাও বাতাসের মান নেমে গেছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে। শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্তদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে কানাডাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, কানাডা বন ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হওয়ায় প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রকে ধোঁয়ার ক্ষতি সহ্য করতে হচ্ছে। এই ক্ষতির অর্থ আদায়ে কানাডার পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান।
আরও পড়ুন:
তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যকে রাজনৈতিক বলেই দেখছে কানাডার একটি বড় অংশ। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড স্মরণ করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল দেখা দিলেই কানাডা কখনো হিসাব কষে সাহায্য করেনি। বরং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্যোগ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা চলে আসছে। তাই এমন সংকটে দোষারোপ নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাবানলের পেছনে শুধু বন ব্যবস্থাপনা নয়, বড় কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। দীর্ঘ খরা, তাপপ্রবাহ, কম বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাতের কারণে উত্তর আমেরিকায় দাবানলের মৌসুম প্রতি বছরই দীর্ঘ হচ্ছে। এতে কানাডার আগুনের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে যাবে, আবার যুক্তরাষ্ট্রের দাবানলের প্রভাবও পড়বে কানাডায়। এই বাস্তবতায় সীমান্ত নয়, সমন্বিত নীতিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।




