ভারত ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ জন

বৃষ্টির পরের অবস্থা
বৃষ্টির পরের অবস্থা | ছবি: সংগৃহীত
0

বর্ষার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ভারত। বিরামহীন ভারী বর্ষণ, উত্তাল বন্যা, ভূমিধসে বিভিন্ন রাজ্যে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৪৯ জনে। শুধু জম্মু-কাশ্মীরে ২৩ জন, আসামে ১০, নাগাল্যান্ডে নয়, সিকিমে সুড়ঙ্গে সাতজনের প্রাণ গেছে। জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডের পর রেড অ্যালার্ট জারি হয়েছে উত্তর প্রদেশ আর গুজরাটেও। বিপদসীমা পেরিয়েছে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি। তীব্র জলাবদ্ধতার কবলে কলকাতা বিমানবন্দর।

হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি উপচে মাঝ সড়কে মরণফাঁদ। হাড় হিম করা এ দৃশ্যের অবতারণা পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে, বালাসোন নদীর তীরে। রাতের আঁধারে উত্তাল স্রোতে আটকে পড়া গাড়ি থেকে চার তরুণকে রশি ব্যবহার করে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন স্থানীয়রা।

পশ্চিমবঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার আর কুচবিহারে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বিপদসীমা পেরিয়েছে তিস্তার পানি; পানি বাড়ছে তোরসা, জলঢাকা আর রাইডাক নদীতে। সোমবার দুপুর থেকে বিরামহীন বৃষ্টিতে কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে কলকাতা বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা। স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সাড়ে ৪ ঘণ্টায় দমদম এলাকায় ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করে আবহাওয়া বিভাগ। তীব্র জলাবদ্ধতা আর টার্মিনালে পানি উঠে যাওয়ায় কয়েক ঘণ্টা বিলম্বিত অসংখ্য ফ্লাইট; বিমানবন্দরে আটকা কয়েক হাজার যাত্রী।

স্থানীয়রা বলেন, এতো পানি তো এতো দিনে কখনো দেখিনি আগে। এখানে আমরা আছি প্রায় আট বছর ধরে। এবার বৃষ্টির পর দেখছি অনেক বেশি পানি জমে গেছে এখানে। বিষয়টা চমকে যাওয়ার মতোই, অবাক লাগছে দেখে। এতো পানি প্রথমবার উঠেছে। ওদিকে ড্রেন পুরো খুলে দেয়া হয়েছে, এতো পানি পড়ছে। আমাদের ঘরও পুরো ডুবে গেছে।

বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে প্রতিবেশী আসামে। প্রায় ৮শ' গ্রাম পানিবন্দি; তলিয়ে গেয়ে ৫০ হাজার একর কৃষিজমি। ১৫ জেলায় বন্যাকবলিত পৌনে চার লাখ মানুষ, বাড়ছে প্রাণহানি। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলায় পানিবন্দি দেড় লাখের বেশি মানুষ। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে রাজ্য সরকারের সাথে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী। ব্রহ্মপুত্রের নিয়ামতিঘাট পয়েন্টে এবং ধানসিঁড়িসহ কয়েকটি শাখা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে।

নাগাল্যান্ডেও বিরামহীন বৃষ্টিতে কয়েকটি ভূমিধস ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। চারজনের মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছে প্রশাসন।

উত্তরপূর্বাঞ্চলের আরেক রাজ্য সিকিমের নামচি জেলায় ভারী বর্ষণের পর ভূমি ধসে একটি নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন প্রায় ৩০ শ্রমিক, প্রাণ গেছে কয়েকজনের। উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে জাতীয় ও রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, দমকল, জরুরি ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থা। এর আগে সুড়ঙ্গে গ্যাস লিক সমস্যার বিষয়ে অবহিত করা হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

উত্তরের জম্মু-কাশ্মীরে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি, বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বাড়ছেই। মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সহায়তায় ছয় লাখ রুপি করে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্চ, রাজৌরি ও দোদা জেলা।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি আছে ১৫টির বেশি রাজ্যে। জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডের পর সর্বোচ্চ আবহাওয়া সতর্কতা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে উত্তর প্রদেশ আর গুজরাটেও। রয়েছে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের আভাস।

ভারতের আবহাওয়াবিদ উমাশঙ্কর দাস বলেন, উত্তরপশ্চিম ও উত্তরপূর্ব ভারতে বর্ষার প্রতাপ জারি থাকতে পারে আরও চার থেকে পাঁচদিন পর্যন্ত। ২০ ও ২১ তারিখ জম্মু-কাশ্মীর আর হিমাচল প্রদেশে, উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশ, বিহার, আসাম আর মেঘালয়ে ২০ তারিখ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

জুলাইয়ের বড় সময়জুড়ে বৃষ্টি বিরতির পর দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থানসহ ভারতের বড় অংশে বর্ষা ফিরেছে দোর্দণ্ড প্রতাপে।

ইএ