ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল; নতুন সেনাপ্রধান দ্রাপাতি

মিখাইল দ্রাপাতি
মিখাইল দ্রাপাতি | ছবি: সংগৃহীত
0

কয়েক দিনের রাজপথের বিক্ষোভের মুখে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান সেনাপতি হিসেবে তরুণ মেজর জেনারেল মিখাইল দ্রাপাতির নাম ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গতকাল (মঙ্গলবার, ২১ জুলাই) এই ঘোষণা দেয়া হয়। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্বে এটিই সবচেয়ে বড় রদবদল। রয়

জেলেনস্কি ৬০ বছর বয়সী ওলেকসান্দর সিরস্কিকে সরিয়ে ৪৩ বছর বয়সী দ্রাপাতিকে নিয়োগ দিয়েছেন। দ্রাপাতি একজন সম্মানিত ও অভিজ্ঞ কমান্ডার। তিনি ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের স্থল বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তাকে নতুন প্রজন্মের জেনারেল হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

গত সপ্তাহে জেলেনস্কি সরকার রদবদল করে মাত্র ছয় মাস দায়িত্ব পালনের পর ৩৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিপ্রেমী ও সংস্কারবাদী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইল ফেদোরভকে বরখাস্ত করেন। এতে বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় যে ইউক্রেন সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্রের গতি হারাতে পারে।

ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি খাত ও লজিস্টিকসে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যুদ্ধের গতি নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা করছে। জ্বালানি খাত রাশিয়ার বাজেটের প্রধান আয়ের উৎস।

দ্রাপাতিকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখতে হবে। ইউক্রেনের দীর্ঘ-পাল্লার নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা এবং মধ্যম-পাল্লার হামলার কর্মসূচি সম্পূর্ণ সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।’

গত সপ্তাহে সরকারের এই আকস্মিক রদবদল রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে। এটি যুদ্ধের সময় নির্বাচন না হওয়ার কারণে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার দুর্বলতাকে প্রকাশ্যে এনেছে।

পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর দ্রাপাতি
সরকারের অস্পষ্ট রদবদলের প্রতিবাদে কয়েক দিনের বিক্ষোভের পর দ্রাপাতিকে নিয়োগ দেয়া হলো। এটি ওই সব ইউক্রেনীয়র অবস্থান প্রতিফলিত করে, যারা যুদ্ধ জয়ের চাবিকাঠি হিসেবে প্রযুক্তির ব্যবহারকে দেখেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করেই তার ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে।

সিরস্কি যুদ্ধের প্রথম দিকে কিয়েভের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে এই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে তার কঠোর কমান্ড শৈলীর জন্য তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কিছু সেনা সদস্য বলেছেন, এতে অহেতুক উচ্চ হারে সেনা প্রাণহানি ঘটেছে।

তার বিরুদ্ধে সময়ে সময়ে বিরোধী স্বর উঠলেও গত সপ্তাহের রদবদল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের গভীর বিভক্তিকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। সমালোচকেরা জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ফেদোরভের বদলে সিরস্কিকে অগ্রাধিকার দেয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। বিশ্লেষকেরাও প্রশ্ন তুলেছিলেন, পঞ্চম বছরে গড়ানো এই যুদ্ধে সিরস্কির নেতৃত্বে ইউক্রেন জিততে পারবে কি না।

দ্রাপাতি ফেসবুকে বলেন, ‘আজ যারা আমাদের দেশকে রক্ষা করছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি পূর্ণ মনোযোগ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব।’

ফেদোরভের পুনর্বহাল ছিল বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি। তিনিও এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে ফেদোরভ বলেন, ‘এটি এক ঝলক তাজা বাতাস এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য মুক্ত মানুষের লড়াইয়ে নতুন আশার সঞ্চার। এটি এমন পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর, যা আর উপেক্ষা করা যাচ্ছিল না।’

যুদ্ধফেরত সেনা ও বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক দিমিত্রো কোজিয়াতিনস্কি এক্সে বলেন, দ্রাপাতির নিয়োগ তার জন্য একটি ‘উপহার’। কারণ, নিয়োগ ঘোষণার দিনটিতেই ছিল তার জন্মদিন।

তবে ফেদোরভের ভাগ্য এখনো অস্পষ্ট। জেলেনস্কি মঙ্গলবার জানান, তিনি ফেদোরভকে রাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অংশ তদারকির জন্য একটি ‘সম্মানজনক পদ’ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে সাবেক এই মন্ত্রী আগে বলেছিলেন, তিনি শুধু তার আগের চাকরিটাই ফেরত পেতে চান। গত সপ্তাহে জেলেনস্কি ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিষেবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান ইয়েভহেনি খমারাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই একই জিনিস চাই: শত্রুকে পরাজিত করা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ও রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যা রাশিয়াকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধ্য করবে।’

এএম