রিয়াদ-আঙ্কারা-ইসলামাবাদ অক্ষ; মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে আসছে যৌথ ঘোষণা

তুরুস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মোহাম্মদ বিন সালমান
তুরুস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মোহাম্মদ বিন সালমান | ছবি: রয়টার্স
0

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার মধ্যে একটি বড় ধরনের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। শুক্রবার পবিত্র মক্কায় এই ঐতিহাসিক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার পর ইরান যেভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চড়াও হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এই তিন মুসলিম শক্তির একজোট হওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ, সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক এবং পাকিস্তান একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম রাষ্ট্র। আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা, ইরানের ভূমিকা এবং ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন নিয়ে এই তিন দেশেরই উদ্বেগ বাড়ছে। চুক্তির বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট না হলেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরব যেভাবে ইরান ও তাদের মিত্রদের হামলার শিকার হয়েছে, তাতে এই নিরাপত্তা জোট রিয়াদের জন্য বাড়তি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও শক্তিশালী সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির বৃহস্পতিবার জেদ্দায় পৌঁছে মক্কায় ওমরাহ পালন করেছেন। শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তারা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে দেখা করবেন। গত প্রায় এক বছর ধরে চলা আলোচনার পর এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে আগে থেকেই একটি চুক্তি রয়েছে, যেখানে যে কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণকে উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে। নতুন এই চুক্তিতে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তিতে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। পাকিস্তান গত কয়েক দশক ধরে সৌদি বাহিনীকে কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ২০২৩ সালে আঙ্কারা তাদের ড্রোন রপ্তানির বৃহত্তম চুক্তিটি করেছিল রিয়াদের সঙ্গে। ইতিমধ্যে পাকিস্তানে ৮ হাজার সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদিতে মোতায়েন করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে তিন বছর ধরে চলা সংঘাত সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও উন্নয়ন পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে মক্কায় সই হতে যাওয়া এই প্রতিরক্ষা চুক্তি তিন দেশের সামরিক সহযোগিতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।

এএম