কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাপ্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় গেল কিছুদিন ধরেই এর কার্যক্ষমতা ও উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তিবিদরা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সময়ও চেয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। সম্প্রতি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি রুখতে এআই সেক্টরের লাগাম টেনে ধরতে একমত হয়েছে স্পেসএক্সএআই, অ্যানথ্রোপিক, ওপেনএআইসহ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো।
এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী প্রজন্মের নতুন মডেল জিপিটি-সিক্স পয়েন্ট ওয়ান অ্যাস্ট্রার উন্মোচন বাতিল করেছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। অক্টোবরে মডেলটি বাজারে আনার পরিকল্পনা ছিল। তবে তাদের সবশেষ পরীক্ষায় দেখা যায়, এটি কোম্পানির নিরাপত্তা ও বিশ্লেষণের মান পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তা স্থগিতের নির্দেশ দেন সংস্থাটির প্রধান স্যাম অল্টম্যান।
ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান বলেন, ‘দ্রুত বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে প্রযুক্তি পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি বিশ্ব ব্যবস্থাকে বদলে দিচ্ছে। এমনকি এসব প্রযুক্তির বেশিরভাগই যদি আরও ভাল হয়ে উঠতে থাকে তারপরও এই পরিবর্তন অনেকটা দিশেহারা অবস্থায় ফেলে দেবে। এই দ্রুত পরিবর্তন সত্যিই বিভ্রান্তিকর।’
ওপেনএআই-এর নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানের মতে, তাদের ফ্ল্যাগশিপ মডেলটি মানুষের নিয়ন্ত্রণকে ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। এটি কী ধরনের কাজ করেছে সে সম্পর্কে ব্যবহারকারীকে তথ্য সরবরাহ করতেও ব্যর্থ হয়েছে। গেল জুনে অনুমতি ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি স্বাস্থ্য খাতের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছিল ওপেনএআই। এসব ঘটনা সামনে আসায় এআই সংস্থাগুলোর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে এআই-এর লাগাম টানার বিষয়ে প্রযুক্তিবিদরা একমত হলেও, এর বিরোধিতা করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন অবস্থায় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের বিষয়ে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান দারিও আমোদির সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, প্রযুক্তিগত ঝুঁকির দিকগুলোর সমাধান না হলে, বিচার বিভাগ হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্ররের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপদ নিয়ে খুব চিন্তিত নই। আমার মতে, এটি একটি বিশাল শিল্প। যা মূলত শিল্প বিপ্লব বা তার চেয়েও বড়কিছু। যার নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের বিশাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যদি খারাপ কিছু হয়, তাহলে তার সমাধান করবে। আর তা না করতে পারলে মার্কিন বিচার বিভাগ তো রয়েছেই।’
তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যাই বলুক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের উদ্বেগগুলো গুরুত্ব সহকারে নেয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কোন প্রযুক্তি বা যন্ত্রের মাধ্যমে যেন মানবসভ্যতা নিয়ন্ত্রিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও।





