পিয়ংইয়াংয়ের সামরিক শক্তি প্রদর্শন; সমুদ্র থেকে দুই কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

জাতীয় প্রতিরক্ষা বিপ্লব জাদুঘর ঘুরে দেখছেন কিম জং উন, তার স্ত্রী রি সল জু ও মেয়ে কিম জু এ
জাতীয় প্রতিরক্ষা বিপ্লব জাদুঘর ঘুরে দেখছেন কিম জং উন, তার স্ত্রী রি সল জু ও মেয়ে কিম জু এ | ছবি: সংগৃহীত
0

পূর্ব উপকূলে সমুদ্র থেকে দুটি ভিন্ন ধরনের সাবমেরিন-উৎক্ষেপণযোগ্য কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এর বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

কেসিএনএ জানায়, যুদ্ধের সময় সামরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা যাচাই করা এবং নৌবাহিনীর কৌশলগত মিশন পরিচালনার দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই পরীক্ষা চালানো হয়। সমুদ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি ছিল ‘পুলহুয়াসাল-৩-৩১’। একই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র গত সপ্তাহে স্থলভাগ থেকেও পরীক্ষা করেছিল উত্তর কোরিয়া। দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা সমুদ্রের এই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তায় এই পরীক্ষার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেছে কেসিএনএ।

উত্তর কোরিয়ার বহরে এখনো কোনো সম্পূর্ণ কার্যকর আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন নেই বলে মনে করা হয়। তবে সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন একে সামরিক বাহিনীর প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বেশ কিছু কৌশলগত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ তদারকি করছেন। গত বছর একটি সাবমেরিন নির্মাণ কারখানা পরিদর্শনের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছিলেন কিম। সেই সময় রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ৮,৭০০ টনের একটি পারমাণবিক চালিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনের নির্মাণকাজ দেখা গিয়েছিল।

সম্প্রতি পিয়ংইয়াং পর পর বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশটির পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এ ছাড়া গত ৩ অক্টোবর একটি হাইপারসনিক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছিল, যা দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে আঘাত হানতে সক্ষম। এর জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মাইউং নিজ দেশের প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও উসকে দিয়েছে।

উভয় দেশের মধ্যকার অসামরিক অঞ্চলে (ডিএমজেড) স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার পর দুই কোরিয়ার সম্পর্ক মারাত্মক মোড় নেয়। তদন্তে উঠে আসে, মাইনগুলো উত্তর কোরীয় বাহিনী পুঁতে রেখেছিল। ২০২৩ সালে শুরু করা ‘শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র’ নীতির অংশ হিসেবে ডিএমজেড সীমান্তে সামরিক অবকাঠামো দ্রুত জোরদার করছে পিয়ংইয়াং। ২০১৯ সালে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়াংশের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে কোরীয় উপদ্বীপে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে।

এএম