ক্ষমতাচ্যুত ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো মার্কিন আদালতে, অস্বীকার করলেন অভিযোগ

নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী
নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের নতুন মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন ভেনিজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস।আজ (বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর) ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে তাদের হাজির করার কথা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত সপ্তাহে পেশ করা নতুন অভিযোগপত্রের মাধ্যমে ৬৩ বছর বয়সী মাদুরো এবং ৭০ বছর বয়সী ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরিধি আরও বাড়ানো হলো। ইতিপূর্বে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে মাদক পাচার ও কোকেন চালানে সহায়তা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তারা। নতুন করে আনা নির্যাতনের অভিযোগও তাদের আইনি দল সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে গত জানুয়ারিতে কারাকাসে এক সামরিক অভিযানে মাদুরো ও ফ্লোরেস গ্রেপ্তার হন। পরে তাদের বিমানে করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। ম্যানহাটন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভেনিজুয়েলায় ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মাদুরো তার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীকে বিরোধী রাজনীতিবিদ ও বিরোধীদের ওপর নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালে সামরিক বাহিনীর সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ে তাদের অপহরণ করার নির্দেশ দেন মাদুরো এবং কর্মকর্তারা নতিস্বীকার না করলে ‘তাদের আরও জোরে চাপ দাও’ বলে নির্দেশ দেন। ওই বৈঠকে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও এতে সম্মতি জানান এবং বিকল্প গোয়েন্দা কৌশলের প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে মাদুরো ও তার স্ত্রীর প্রত্যেকের অন্তত ৫০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম ২০২৭ সালের ১ জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনিজুয়েলায় মাদুরোর ১৩ বছরের শাসনকালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে মাদুরো সরকার। গত ৩ জানুয়ারির সামরিক অভিযানের পর থেকে মাদুরো দম্পতি ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী রয়েছেন।

মাদুরো গ্রেপ্তারের পর ভেনিজুয়েলার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়িয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মাদুরোকে গ্রেপ্তার ও ভেনিজুয়েলার সরকারের পরিবর্তনকে নিজেদের বড় বৈদেশিক নীতিগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এএম