মধ্যপ্রাচ্যে সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতা: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণ করছে সৌদি

সৌদি আরবের আল দুয়াদিমিতে সলিড প্রপেল্যান্ট মোটর তৈরির কারখানার স্যাটেলাইট চিত্র
সৌদি আরবের আল দুয়াদিমিতে সলিড প্রপেল্যান্ট মোটর তৈরির কারখানার স্যাটেলাইট চিত্র | ছবি: রয়টার্স
0

সৌদি আরব তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা সম্প্রসারণ করছে। এর মাধ্যমে দেশটি আরও দূরপাল্লার ও বেশি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম কঠিন জ্বালানির (সলিড ফুয়েল) ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দুই গবেষক জানিয়েছেন। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের এক বছরের বেশি সময়ের ছবি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তারা এ তথ্য প্রকাশ করেন।

গবেষকদের মতে, আরও উন্নত ও দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সৌদি আরব ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে পারবে এবং সামরিক খাতে তাদের স্বনির্ভরতা বাড়বে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি সৌদির অবস্থানকে শক্ত করতে পারে। তবে এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতা উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে সৌদির বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির বিষয়েও মার্কিন কংগ্রেসে বিরোধিতা বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এফপিআরআই) দুই গবেষক স্যাম লেয়ার ও মাইকেল ডুইটসম্যান এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট ল্যাবসের ধারণ করা ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করেছেন তারা। ছবিতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে আল-দুওয়াদিমি ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় নতুন একটি বড় ভবন গড়ে তুলতে দেখা গেছে। ভবনটিতে মূলত ক্ষেপণাস্ত্রের মোটরে জ্বালানি ঢালার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, নতুন এই অবকাঠামোটি কারখানার বিদ্যমান ব্যবস্থার চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ বড়। ভবনটির চারপাশে বিস্ফোরণ প্রতিরোধী বিশেষ দেয়াল তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আশপাশের অবকাঠামো সুরক্ষিত থাকে। এ ধরনের দেয়াল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাতেও দেখা যায়। এছাড়া জ্বালানি বা ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদান মজুতের জন্য দ্বিতীয় আরেকটি ভবনও তৈরি করা হচ্ছে।

লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) ও মার্কিন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিএনএ-এর বিশ্লেষকদের মতে, সৌদির এই কারখানা মূলত চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি রপ্তানিতে কড়াকড়ি রাখায় রিয়াদ বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকেছে। গবেষক লেয়ার জানান, সৌদি আরব ইতিমধ্যে কঠিন জ্বালানির ডিএফ-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন শুরু করে থাকতে পারে এবং আল-দুওয়াদিমির সম্প্রসারণের মাধ্যমে তারা আরও দূরপাল্লার ডিএফ-২১ বা সমমানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আইআইএসএস-এর গবেষক সাশা ব্রুকমান বলেন, ‘তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষার ঝুঁকি নিয়ে সেখানে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান না পাঠিয়েও দূর থেকে চাপ তৈরি করতে চাইলে এমন প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় ইরান এখন এগিয়ে রয়েছে, সৌদি এই ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনতে পারবে।’ সিএনএ-এর বিশ্লেষক ডেকার এভেলেথ জানান, মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই অস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর তৎপরতা চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কেও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।

স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে আল-দুওয়াদিমির সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ভবনের ছাদ পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে যন্ত্রপাতি বসাতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ কারখানা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের কাজ শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও সৌদি দূতাবাস ও তথ্য মন্ত্রণালয় সাড়া দেয়নি। বেইজিং, হোয়াইট হাউস এবং সিআইএ-ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এএম