যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে দেখা হয় ওই সময়ের প্রেসিডেন্টের কার্যক্রমের মূল্যায়ন বা রেফারেন্ডাম হিসেবে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মিডটার্ম ট্রাম্পের রীতিমতো অগ্নিপরীক্ষাই।
প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই নির্বাচন হচ্ছে, যেখানে ২১৪ আসন নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের ২১৮ জন প্রতিনিধির ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ডেমোক্র্যাটরা। ব্যবধান খুব সামান্য। আর উচ্চকক্ষ বা সিনেটে ১০০টি আসনের মধ্যে এবার ভোট হচ্ছে ৩৫টি আসনে। রিপাবলিকানদের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান এখানে মাত্র ৬। কাজেই বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবিরের লক্ষ্য একটাই। ৩৫ আসনের লড়াই থেকে যে কোনো উপায়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়া। এতে করে আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নে আগামী ২ বছর বড় বাধার মুখে পড়বেন ট্রাম্প, এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত শুরুর একতিয়ার চলে যাবে ডেমোক্র্যাটদের দখলে। এছাড়াও গভর্নর নির্বাচন হচ্ছে ৩৯টি রাজ্যে।
তাই দম ফেলার ফুরসত নেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ফার্স্ট লেডিকে নিয়ে আগাম ভোট দিয়ে, মাত্র ২ মিনিটের একটি প্রশ্নত্তোর পর্বে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি, আর সবশেষে গ্রিনল্যান্ড চুক্তিকে বর্তমান প্রশাসনের অর্জন হিসেবেই উপস্থাপন করেলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে রিপাবলিকান শিবিরের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি জর্জিয়ায় বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অডির এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি আনার ঘোষণা দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন ট্রিপ্লেক্স অর্থাৎ শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ, ভোটব্যাংক রিপাবলিকানদের হাতে থাকলে, বদলে দিতে পারেন স্টেটের ভবিষ্যত।
আরও পড়ুন:
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘চমৎকার একটি কোম্পানির পক্ষ থেকে জর্জিয়ার গাড়ি উৎপাদন খাতে বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। জর্জিয়ার ম্যাকনে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অডি। এর অধীনে আগামী মাসেই বিশাল কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হবে, যা বছরে ২ লাখ গাড়ি উৎপাদন করবে।’
এদিন, ওহাইওতে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী শেরড ব্রাউন এবং গভর্নর প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটনের পক্ষে প্রচারে নামেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কৌশল ছিল ইরান ইস্যুতেই ঘায়েল করতে হবে ট্রাম্পকে। ওবামার সরাসরি অভিযোগ করেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই ভুল সিদ্ধান্তের জেরেই যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ পণ্যে মূল্যস্ফীতি, বেড়েছে ভোক্তার ব্যয়।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘একজন প্রেসিডেন্টের সমগ্র অর্থনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না, কিন্তু এক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। এই প্রশাসনের কর্মকাণ্ডই ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের জন্য সরাসরি দায়ী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তিনি এমন একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা কেউ চায়নি এবং যার জন্য কেউ ভোটও দেয়নি।’
এদিকে, তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ নিয়ে নিউ হ্যাম্পশায়ারে নির্বাচনী প্রচারণায় ফিরেছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস। ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের স্বৈরশাসক আখ্যা দিয়ে ডেমোক্র্যাটিক ভোটারদের ক্ষোভকে শক্তিতে পরিণত করার কৌশল নিয়েছেন কামালা।




