এক সপ্তাহে প্রায় ৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত পাঠালো সৌদি; গ্রেপ্তার ১৩ হাজারের বেশি

সৌদি আরবের পতাকা
সৌদি আরবের পতাকা | ছবি: সংগৃহীত
0

আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৯৩৪ জন বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে দেশজুড়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল (শনিবার, ২৪ অক্টোবর ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ১৫ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে সারা দেশে সমন্বিত এই অভিযান চালানো হয়। এতে মোট ১৩ হাজার ৯০৫টি আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫৪ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘন, ৩ হাজার ৮৬৫ জনের বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন এবং ৩ হাজার ৪৮৬ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আটক হয়েছেন ১ হাজার ৮৮১ জন। একই সময়ে অনুমোদনহীন সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টার অভিযোগে আরও ২২ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে বসবাসকারীদের আশ্রয় দেয়া, পরিবহন সুবিধা প্রদান, কাজে নিয়োগ এবং পরিচয় গোপন করতে সহায়তা করার অপরাধে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে মোট ৩৭ হাজার ৬১৮ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ১৬৯ জন নারী। এছাড়া ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা ভ্রমণ ছাড়পত্র সংগ্রহের জন্য ২০ হাজার ২৫২ জনকে সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং ৬ হাজার ৫৫৫ জনের সফরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এই সপ্তাহেই ৭ হাজার ৯৩৪ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলেও তারা কোন কোন দেশের নাগরিক তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

দেশটিতে অবৈধভাবে প্রবেশ বা বসবাসকারীদের কোনো ধরনের সহায়তা দেয়ার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অবৈধ প্রবাসীদের সহায়তা, পরিবহন বা বাসস্থান দিলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি এই অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও বাসস্থান বাজেয়াপ্ত করা হবে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সন্দেহভাজনদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্য দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এএম