গহনা চুরির ৯ মাস পর খোলা হলো ল্যুভর জাদুঘর

ল্যুভর জাদুঘর
ল্যুভর জাদুঘর | ছবি: সংগৃহীত
0

রাজ পরিবারের ব্যবহৃত ঐতিহাসিক মুক্তা ও গহনা চুরির দীর্ঘ সময় পর আবারও খুলে দেয়া হলো ফ্রান্সের বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর। এখন থেকে মূল্যবান রত্ন ও গহনাগুলো আরও সুরক্ষিত স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন করে জাদুঘরের অ্যাপোলো গ্যালারি দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

নেপোলিয়ন যুগের রাজ মুকুট ও গহনা চুরির ৯ মাস পর অবশেষে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে ফ্রান্সের বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘরের অ্যাপোলো গ্যালারি। গত বছরের ১৯ অক্টোবর জাদুঘর খোলার ঠিক পরেই এক চাঞ্চল্যকর ডাকাতি হয় অ্যাপোলো গ্যালারিতে।

৭ মিনিটেরও কম সময়ে চারজন মুখোশধারী জাদুঘর থেকে মূল্যবান গহনা ও রত্ন নিয়ে পালিয়ে যায়। চুরি হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল উনিশ শতকের ফরাসি রাজপরিবারের মুক্তাখচিত মুকুট, হীরার ব্রোচ, স্মৃতিচিহ্ন রাখার পাত্র এবং পান্না ও নীলকান্তমণি খচিত গহনার সেট। যার বাজার মূল্য এক হাজার ২৩৬ কোটি টাকার বেশি।

তবে গহনা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সম্রাজ্ঞী ইউজিনির মুকুটি চোরদের কাছ থেকে মেঝেতে পরে ভেঙে যায় এবং দুর্বৃত্তরা তা রেখেই পালিয়ে যায়। মুকুটিকে মেরামত করে পুনরায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে গ্যালারি পুনরায় চালু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত দর্শনার্থীরা।

দর্শকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আজ এখানে থাকতে পারা এবং এটিকে আবারও খুলতে দেখতে পারাটা এক অসাধারণ ব্যাপার। চুরির ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক ছিলো।’

আরও পড়ুন:

যদিও এখন থেকে অ্যাপোলো গ্যালারিতে দর্শনার্থীরা কেবল চোখ ধাঁধানো স্থাপত্য শিল্প এবং এর বিখ্যাত চিত্র কর্মগুলো উপভোগ করতে পারবেন। আগের মতো রাজপরিবারের মূল্যবান রত্ন ও গহনাগুলো গ্যালারিতে আর থাকছে না। নিরাপত্তার কারণে সেগুলোকে জাদুঘরের আরও সুরক্ষিত স্থানে প্রদর্শন করা হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

ল্যুভর জাদুঘরের পরিচালক ক্রিস্তফ লেরিবো বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে অ্যাপোলো গ্যালারি আবারও খুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে আর রাজমুকুট ও রত্নপাথরগুলো রাখা হবে না। সেগুলো জাদুঘরের অন্য সুরক্ষিত স্থানে প্রদর্শন করা হবে। তবে দর্শনার্থীরা এই গ্যালারিটির চমৎকার স্থাপত্য শিল্প ও চিত্র সজ্জা নতুন করে উপভোগ করতে পারবে।’

তবে এটিই প্রথম নয়, এর আগে ১৯১১ সালে বিখ্যাত ‘মোনালিসা’ চিত্রকর্মটি এই জাদুঘর থেকে চুরি হয়ে যায়। যা তিন বছর পর উদ্ধার হয়। আবার ১৯৮৩ সালেও জাদুঘরটি থেকে ১৬ শতকের কিছু বর্ম চুরি হয়েছিল, যা ২০১১ সালে পুনরায় পাওয়া যায়। এছাড়া ১৯৯৮ সালেও একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম চুরি হয়েছিল, যা আজও পাওয়া যায়নি।

এদিকে ২০২৫ সালে চুরি হওয়া বেশিরভাগ গয়না ও রত্ন এখনও নিখোঁজ। ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে চারজনকে অভিযুক্ত করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এসএস