যুদ্ধ শুরুর পর চলতি সপ্তাহে দু’বার ইরানে সর্বোচ্চ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর জেরেই এবার মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হলো পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দ্বীপ খারগ। দ্বীপটিতে ভয়াবহ বোমা হামলার পর এই তথ্য জানিয়েছে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হামলা হয়েছে খারগে।
ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশেরও বেশি এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এই দ্বীপটি তেহরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। যেখানে আছে, বিশাল টার্মিনাল এবং স্টোরেজ সুবিধা।
আরও পড়ুন:
ইরান ইন্টারন্যাশনালের খবর দ্বীপটিতে অন্তত ১৫ বার বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেলেও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য সামনে আসেনি। তবে, তেহরানে দাবি, ব্যাপক হামলা হলেও অক্ষত আছে জ্বালানি অবকাঠামোর।
আর ট্রাম্পের পোস্টের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন মালিকানাধীন জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হবে।
এদিকে দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কমছে না সংঘাতের তীব্রতা। খারগ ছাড়াও শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিনগত রাতে রাজধানী তেহরানে দফায় দফায় বোমা হামলা করেছে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী। আরেক ফ্রন্টে হিজবুল্লার সঙ্গে যুদ্ধ করছে ইসরাইলি সেনারা। দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতেও চলছে ইসরাইলের এয়ার স্ট্রাইক। বৈরুত সফরকালে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে যুদ্ধ থামানোর বার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
এসবের ভেতরেই দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। শুক্রবার রাতভর সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে মধ্য ইসরাইল। তেল আবিব ও দক্ষিণ প্রান্তেও চলছে হামলা। আর উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে শনিবার (১৪ মার্চ) নতুন করে হামলার কবলে পড়েছে কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরব। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন কর্মকর্তাদের পরিবারসহ ওমান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।





