জ্বালানি স্থাপনায় হামলায় যুদ্ধের নতুন মোড়!

কাতারের রাস লাফানে হামলা
কাতারের রাস লাফানে হামলা | ছবি: সংগৃহীত
1

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ নতুন দিকে মোড় নিয়েছে উল্লেখ করে চরম প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে ইরান। এরইমধ্যে ইসরাইলের হাইফার তেল শোধানাগারে হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে আইআরজিসি। তবে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা না চালানোর আশ্বাস দিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা থেকে পিছু হটেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর নগরী হাইফার একটি তেল শোধনাগারের বেজে ওঠে সতর্কতামূলক সাইরেন। কিছু সময় পরই আকাশে ধরা পড়ে আগুনের বড় কুণ্ডলী। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে হাইফা তেল শোধনাগারে। মুহুর্তেই সেটিতে আগুন ধরে যায়। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া, ইসরাইলের বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোতেও হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে জেরুজালেমের আকাশও।

আইআরজিসি বলছে, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। তেহরানের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুশিয়ারি জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলায় তেহরান সামরিক শক্তির সামান্য অংশ ব্যবহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমানও ধ্বংস করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী দাবি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে ইরানের। সাউথ পার্সে গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইল একাই হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না করার আশ্বাস দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইল জড়ায়নি দাবি করে হরমুজ প্রণালি সচলে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান নেতানিয়াহু।

আরও পড়ুন:

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলার চেয়ে আবেদন করেছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, দুষ্কৃতকারীদের হত্যা করতে অর্থ প্রয়োজন। সামরিক বাহিনীকে সুসজ্জিত করতে পেন্টাগন সামান্য অর্থ চেয়েছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তবে ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নেই বলে নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের নেতৃত্ব শূন্য হয়ে গেছে। তাদের নেতারা সবাই মারা গেছে। নতুন নেতা নিয়োগ করেও লাভ নেই। যুক্তরাষ্ট্র যখন খুশি ইরান দখল করে নিতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেলে ছোট্ট একটি দ্বীপ। যা সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় আছে। ইরানের অভিযানের জন্য এমন কিছু করতে হয়েছে যা করার সাহস অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের নেই।’

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, সৌদি আরব ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এ সময় ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংসের দাবি করেছে আঞ্চলিক দেশগুলো।

কিরিয়াত শমোনা শহরে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর রকেট হামলায় আহত হয়েছে দুই ইসরাইলি। অ্যাপার্টমেন্টের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এ সময় বাসিন্দারা আতঙ্কে ভবনের বেইজমেন্টে আশ্রয় নেয়।

এসএস