জ্বালানি তেল সংকট: এক মাসে অতিরিক্ত খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি

জ্বালানি তেলের প্রতীকী
জ্বালানি তেলের প্রতীকী | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত তীব্র হচ্ছে জ্বালানি তেলের সংকট। যুদ্ধ শুরুর পর গেল এক মাসে তেল-গ্যাস বাবদ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ খরচ হয়েছে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের। এপ্রিল থেকে ইমার্জেন্সি অপশন চালু করে বিমান পরিষেবা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছে জাপান। এদিকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে বিকল্প পথে তেল রপ্তানি শুরু করেছে সৌদি আরব।

নিজস্ব বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার করে সরকারি বাসভবনে ফিরছেন থাই প্রধানমন্ত্রী। খুব সাদামাটা এই খবরটিও জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। কারণ ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, তখন ই-ভেইকেল হতে পরে সাধারণ পরিবহন ব্যবস্থার বিকল্প। এমন বার্তাই দিলেন অনুতিন চার্নভিরাকুল।

মঙ্গলবার থাইল্যান্ডে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৪০ বাথ ছাড়িয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে ডিজেলের দাম বেড়েছে থাইমুদ্রায় ১০ বাথ পর্যন্ত। বিশ্ববাজারে সোমবারের তুলনায় অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয়েছে ১০৬ থেকে ১০৯ ডলারে।

আরও পড়ুন:

পরিবেশবাদী সংগঠন থ্রিফিফটি ডট ওআরজি বলছে, যুদ্ধের প্রথম মাসে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ায় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। আর এই সুযোগে মুনাফার অংক বাড়াচ্ছে শেভরন, শেল, এক্সন মবিলের মতো তেল কোম্পানি।

এরইমধ্যে এই সংকট মোকাবিলায়, তেল কোম্পানিগুলোর অপ্রত্যাশিত মুনাফার ওপর নতুন করের প্রস্তাব করেছে ফিলিপিন্স। তেল রপ্তানির ওপর পুনরায় ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ চালু করেছে ভারতও। আর, জ্বালানি খাতে স্বনির্ভর হতে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইন্দোনেশিয়া।

আরও পড়ুন:

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাকার্তার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার বেইজিং-এর। আর, এপ্রিল থেকে ইমার্জেন্সি অপশন চালু করে বিমান পরিষেবা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। স্থানীয় সময় রাত ৯টার মধ্যে দোকান-পাট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে মিশর।

এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে তেল রপ্তানি শুরু করেছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে গত দুই সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল পাঠিয়েছে তারা। যা স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি। তবে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় লোহিত সাগরের ওই বিকল্প পথটিও এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজের পর যদি লোহিত সাগর দিয়েও তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

এসএস