হুতিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১১, ইয়েমেনের পাশে যুক্তরাষ্ট্র

হুতিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
হুতিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা | ছবি: রয়টার্স
0

লোহিত সাগরে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। সৌদি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে এ হামলা চালানোর দাবি করা হলেও, হতাহতদের মধ্যে নির্দিষ্ট করে সৌদি সেনা হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি, হামলায় সৌদি বাহিনীর অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ইয়েমেনি পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর হুতিদের হামলা মোকাবিলায় ইয়েমেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীটির সঙ্গে সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব-সংঘাত প্রায় দেড় দশকের। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে দেশটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারকে হটিয়ে দিলে সৌদি আরব সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তার আশঙ্কায় হুতিবিরোধী সামরিক জোটে জড়িয়ে যায়। সৌদি আরব ইয়েমেনি সরকারকে পুনর্বহাল করতে হুতিদের দমনে সামরিক অভিযান শুরু করে।

এরপর থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির সঙ্গে সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে। হুতি আন্দোলনকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর অংশ ও কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখা হয়। ফলে এই সংঘাত সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ছায়া যুদ্ধ বা প্রক্সি যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন:

হুতিরা প্রায়ই সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত, বিমানবন্দর এবং আরামকোর মতো তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। লোহিত সাগর ও বাব আল মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের হামলা এবং নৌ-অবরোধের হুমকি সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ইয়েমেনের লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখায় হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। হুতিরা সৌদি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে এ হামলা চালানোর দাবি করলেও, হতাহতদের মধ্যে নির্দিষ্টভাবে সৌদি সেনা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। এছাড়া সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারেও হামলা চালায় তারা।

হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি,হামলায় সৌদি বাহিনীর অস্ত্রের গুদামকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:

হুতি নেতা আব্দুলমালিক আল-হুতি বলেন, ‘লোহিত সাগরে, বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব সংলগ্ন ইয়েমেনি জলসীমায় যেকোনো ইসরাইলি ও সৌদি জাহাজের ওপর নজরদারিতে আমরা সজাগ আছি।’

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় হতাহতদের মধ্যে ইয়েমেনি সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

এ ঘটনার পর হুতি হামলা মোকাবিলায় ইয়েমেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের পিএলসি/ প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের অন্তর্বর্তী সরকারকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়ার মতো কিছু কৌশলগত লক্ষ্যে সানাকে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

এসএস