ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে গড়ে ওঠা শিয়াপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হুথি এখন সাক্ষাৎ আতঙ্ক সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য। গেল কয়েক সপ্তাহে লোহিত সাগর, ইয়েমেনের একের পর এক কৌশলগত দ্বীপ দখল এবং রিয়াদসহ সৌদির একাধিক বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে নিজেদের শক্তির পূর্ণ জানান দিয়েছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি।
এ কারণে হুথিদের সঙ্গে লড়াইয়ে হাঁপিয়ে ওঠা সৌদি আরব হন্যে হয়ে খুঁজছে সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর সহায়তা। বারবার যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারস্থ হলেও কোনো আশা পাননি সৌদি যুবরাজ। তবে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে দর্শকের ভূমিকাতে থাকলেও, এবার রিয়াদকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।
জানান, হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করবে ব্রিটিশ এয়ার ফোর্স। বিবিসি বলছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরএএফ ভয়েজার ট্যাংকার বিমান মোতায়েন করে এই সহায়তা শুরু করবে যুক্তরাজ্য।
আরও পড়ুন:
এদিকে হুথি নিয়ন্ত্রিত তাইজ প্রদেশে গোষ্ঠীটির ঘাঁটি ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে বিমান হামলার দাবি করেছে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোকে লোহিত সাগরের উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ইয়েমেনের কৌশলগত পার্বত্য অঞ্চলগুলো দখলে অগ্রসর হচ্ছে হুথি বিদ্রোহীরা।
এছাড়া রয়টার্স সৌদির কয়েক দফা অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলার পরিকল্পনা করলেও শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের নির্দেশে তা বাতিল করা হয়।
ইয়েমেন সংঘাত নিয়ে চিন্তিত বিশ্বনেতারাও। সংঘাত নিরসনে হুথিদের সামরিক সহায়তা বন্ধে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছেন জি-৭ ভুক্ত দেশের নেতারা। নিউইয়র্কে একটি সাইডলাইন বৈঠকে যোগ দিয়ে জোটের নেতারা হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে বেসামরিক জাহাজকে টার্গেট না করার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:
লোহিত সাগরের মতো স্থবির বিশ্ব তেল পরিবহনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে জলপথটিতে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা চলাচল নিশ্চিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
পরে এক্স বার্তায় ঘোষণা দেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে হরমুজে নৌযানের সুরক্ষায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে ওয়াশিংটন-প্যারিস। এদিকে হরমুজে দু’টি তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন দফা হামলার খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন ইউকেএমটিও।
হরমুজ উত্তেজনার পাশাপাশি জারি রয়েছে কথার লড়াইও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সৈন্যদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার সাফ বার্তা দিয়েছে আইআরজিসি। আর বুধবার বিশ্ব থেকে ইরানের বিমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকি দিয়েছে মার্কিন অর্থমন্ত্রী। তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র বলছে, অব্যাহত থাকবে ফ্লাইট চলাচল।
আরও পড়ুন:
এদিকে ইরান যুদ্ধের জেরে আরও তলানিতে ঠেকেছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা। রয়টার্স/ইপসোসের নতুন গবেষণা বলছে, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে হোয়াইট হাউজের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হওয়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন।



