ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আদালত প্রঙ্গনে আসামি
আদালত প্রঙ্গনে আসামি | ছবি: এখন টিভি
0

ফরিদপুরে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী রুবাইয়া বেগমকে (২৫) হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে স্বামী আহাদ শেখকে (৩৩) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ) দুপুর বারোটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়ন কাজী বল্লভদী গ্রামের বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের শিকার রুবাইয়া একই উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী গ্রামের বাসিন্দা।

রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে রুবাইয়া এবং আহাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের একটি কন্যা সন্তান হয়। বিয়ের তিন বছর পর আহাদ সৌদি আরব যাওয়ার জন্য বউয়ের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। চাহিদা অনুযায়ী তিন লাখের মধ্যে এক লাখ টাকা দেয়াও হয়।

আরও পড়ুন:

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্বামীর দাবি অনুযায়ী আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এ টাকা দিতে না পারায় ২০১৮ সালের পহেলা আগস্ট আহাদ তার স্ত্রীকে প্রথমে মারধর এবং পরে মুখে বিষ প্রয়োগ করে তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় ওই মেয়ের মা রোমেছা বেগম (৫৪) বাদী হয়ে আহাদ শেখ ও তার মা এবং তিন ভাইসহ মোট পাঁচ জনকে আসামী করে সালথা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর জেলা সিআইডি কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আমিনুজ্জামান। তিনি মামলাটি তদন্ত করে রুবাইয়াকে হত্যার দায়ে তার স্বামী আহাদ শেখ ও দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ (৩৮) ও মাহিম শেখকে (৩৪) অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ২৩ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আদালত স্বামী আহাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আহাদের দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ ও মাহিম শেখের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে আদালত বেকুসুর খালাস প্রদান করেন।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং সুস্থ সমাজে যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি কাম্য নয়। আজকের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

এফএস