আন্ডার-সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পর্কে অবহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে, বিশেষ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জবাবে অ্যালিসন হুকার বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রয়েছে এবং আশা করছি ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
বৈঠকে খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কৃষিপণ্য আমদানির বিপরীতে মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি সাম্প্রতিক ভিসা বন্ডের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত সহজীকরণের অনুরোধ জানান এবং স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি১) ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্যও অনুরোধ করেন।
হুকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে জানান, ভবিষ্যতে পর্যটকদের ওভারস্টে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে ভিসা বন্ড সংক্রান্ত শর্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। পাশাপাশি অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্র যে রোহিঙ্গাদের জন্য সর্ববৃহৎ দাতা, তা উল্লেখ করে তিনি এ সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধও জানান।
জবাবে হুকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে বড় ধরনের দায়িত্ব পালন করছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বোঝা ভাগাভাগির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং রোহিঙ্গারা যতদিন বাংলাদেশে অবস্থান করবে, ততদিন তাদের জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।
আরও পড়ুন:
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি) অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নের জন্য অর্থায়নের সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানান। আন্ডার-সেক্রেটারি হুকার এসব প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
ড. খলিলুর রহমান গাজায় মোতায়েনযোগ্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে আগ্রহের কথাও জানান। এ বিষয়ে মিস হুকার বলেন, ‘এ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।’
এছাড়া সহকারী সেক্রেটারি অব স্টেট পল কাপুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
সফরকালে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট মাইকেল জে. রিগাস শপথ বাক্য পাঠ করান।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘একটি উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশের যাত্রাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে। নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে একযোগে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আমি আগ্রহী।’
সফরের সব কর্মসূচিতে দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন।





