আলোচনায় দুর্নীতিমুক্ত দেশ, নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন এবং নির্বাচনের পরে সংসদে যাওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে যদি জবাবদিহিতার জায়গায় আনতে পারে না পারলে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত সম্ভব নয় বলে জানান বক্তারা।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে একটি শ্রমিক ইশতেহার তৈরি করে তা নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে তুলে ধরতে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যাল্যায়েন্স।
সকালে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপির মতো রাজনৈতিক দল এবং ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন। আলোচনায় নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন এবং জাতীয় নির্বাচনের পরে সংসদে যাওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে যদি জবাবদিহিতার জায়গায় আনতে পারে না পারলে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত সম্ভব নয় বলে জানান বক্তারা
বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শ্রমিকের দাবি কোনো দয়াদাক্ষিণ্য নয়, এটা তার অধিকারের কথা। নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন এবং জাতীয় নির্বাচনের পরে সংসদে যাওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে যদি জবাবদিহিতার জায়গায় আনতে পারে সংগঠনগুলো, তাহলেই দেশে শ্রমিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে কিছুটা উন্নতি আশা করা যায়। রাজনৈতিক দলগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে না পারলে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত সম্ভব হবে না।’
আরও পড়ুন:
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, ‘যে দেশে দুর্নীতি থাকে সেই দেশে কখনো শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হয় না। শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত, মালিক ও শ্রমিকের সুসম্পর্ক থাকলে দেশে উৎপাদন বাড়বে। শ্রমনীতি থাকলেও দেশে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ না হলে সেই নীতি কোনো কাজে আসবে না। আদর্শভিত্তিক একটি শ্রমনীতি থাকলেই একটি মানবিক রাষ্ট্র তৈরি হবে। শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বড় চ্যালেঞ্জ অমানবিক আচরণ। তাই দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের কার্ডের রাজনীতি না করে কাজের রাজনীতি করতে হবে উল্লেখ করে শ্রমিক অধিকার রক্ষায় পলিসি তৈরি করে তার প্রায়োগিক ব্যবস্থা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
এহসানুল মাহবুব বলেন, ‘ক্ষমতায় যেতে শ্রমিকদের ব্যবহার করলেও তাদের অধিকার নিশ্চিতে কেউ কাজ করে না। শুধু পরিকল্পনা নয়, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় পলিসি তৈরি করে প্রায়োগিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কার্ডের রাজনীতি না করে কাজের রাজনীতি করতে হবে।’
তি বলেন, ‘এমন কোনো প্রতিশ্রুতি আমরা দেবো না যা আমরা বাস্তবায়ন করতে না পারব না। একটি মানবিক, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করাতে হবে।’
আরও পড়ুন:
অনুষ্ঠানে বিএনপির দুই স্থায়ী কমিটির সদস্য যোগ দিয়ে জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা ক্ষমতায় আসবেন এবং যারা আসবেন না, শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতের দায়িত্ব উভয়ের উপর বর্তাবে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেশের শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রমিকদের স্বার্থে যারা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তাদের সহায়তায় শ্রমিক ইশতেহার ঘোষণা হয়েছে। যারা আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে তাদের ওপর শ্রমিক ইশতেহার বাস্তবায়নের দায়িত্ব আসবে। যারা ক্ষমতায় আসবেন না, তারা এ ইশতেহার বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগের কাজ করাবে বলে প্রত্যাশা রাখি। শ্রমিকের যে দাবি, আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে ইশতেহারে সেগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা পাবো বলে প্রত্যাশা রাখি।’
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘শ্রমিকদের অধিকার বার বার তালিকাভুক্ত না করে অধিকার আদায়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করা গেলেই শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে। যারা অধিকারবঞ্চিত তাদেরকে সেই অধিকার ছিনিয়ে আনতে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
সভায় শ্রমিক ইশতেহারে যেসব দাবি তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দলের সহায়তা চান বক্তারা।





