প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাটাগাং খাল (৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার) খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন তিনি।
এ দিন সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়নে করপোরেশনের (বিএডিসি) আয়োজনে উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের আনিকালি বড় গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কাটাগাং খাল পূনঃখনন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছিল, সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবারও খাল খনন শুরু হয়েছে। এতে করে দেশ আবারও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে ও কর্মসংস্থান বাড়বে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেল এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, মিজানুর রহমান মিজান প্রশাসক, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ এবং বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী (নির্মাণ) মুহাম্মদ বদরুল আলম।
আরও পড়ুন:
এছাড়া খাল খনন উদ্বোধন উপলক্ষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শ্রমিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী এবং এলাকার সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পরপরই কাটাগাং খালের খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া খাল-নদী পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং স্থানীয় কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একইসঙ্গে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে, যা এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসময় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কাটাগাং খালের নাব্যতা পুনরুদ্ধার করা হবে এবং আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং এতে স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন, যা এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।
উল্লেখ্য, এ কাটাগাং খালের ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার অংশে তিনটি ভাগে ৬০ লাখ টাকার কাজ করা হবে। একই দিনে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের এই বৃহৎ কর্মসূচি একযোগে বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





