অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের টানাপড়েন পেরিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভারতে প্রথম উচ্চ পর্যায়ের সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান। মরিশাসের ভারত মহাসাগর সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগমূহুর্তে সাত ও আট এপ্রিল দিল্লী সফর করবেন তিনি। তার সফর সঙ্গী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করবেন তারা।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোন টানাপড়েন এই মুহূর্তে নেই। দুই দেশই বর্তমান সম্পর্কর আরও উন্নতি চায়। সেই জায়গায় পারস্পরিক স্বার্থ ও চাওয়া পাওয়ার ওপর নির্ভর করে আগামী দিনের পথচলা নির্ধারণ করতে চায় ঢাকা-দিল্লী। নতুন বাস্তবতায় দেশের স্বার্থ বজায় রেখে কূটনৈতিক প্রয়াস চালানোর পরামর্শ সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির বলেন, ‘প্রাথমিক যে ইন্ডিকেশনটা পাচ্ছি তাতে সম্পর্কটা স্বাভাবিক থাকবে বলেই মনে হয়। তাদের আগ্রহের জায়গা থেকে এটা বুঝা যাচ্ছে তারা বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক করতেও আগ্রহী। এখন আমাদের ওপর এটা বিবেচনায় থাকবে আমরা কিভাবে এটা সম্পর্কটা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের জাতীয় স্বার্থকে রক্ষা করি।’
আরও পড়ুন:
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভারত থেকে তেল-গ্যাস আমদানির বিষয়ে আলোচনা হবে দেশটির পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী হারদ্বিপ সিং পুরির সাথে। এছাড়াও, ভিসা স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দেশটিকে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে কনস্যুলার অ্যাকসেস নিয়ে আলোচনা পাবে বিশেষ গুরুত্ব।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘যে ধরনের ভিসা দিতো সেটা দিতে গেলে বড় ধরনের কাঠামো দরকার। সে জায়গায় আমি যতটুক শুনেছি তারা লাজ করছে। তারা মনে করছে বাংলাদেশের ভিসা রেজিম স্বাভাবিক করা যাবে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের এমনিই পাইপলাইন আছে, আসামের মাধ্যমে যেটা আসে। সে জায়গায় বড় কিছু করা যায় কি না, যদি যুদ্ধ অনেকদিন চলে তখন কী হবে ওই এনার্জি সিকিউরিটি আনি মনে করি বড় একটা বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।’
আলোচনার টেবিলে থাকছে সীমান্তে নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন জটিল ইস্যু। চলতি বছর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে ভাবছে ভারত। আলোচনায় এই চুক্তি ও পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়ও তুলে ধরবে ঢাকা।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘পানির বিষয়টা কোনো মিলিটারি বেইজ হচ্ছে না। এটা কোনো কান্ট্রি বেইজ হচ্ছে না। এটা কোনো কাঠামো হচ্ছে না যে কেউ এটাকে নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে আসবে। সে জায়গায় আমি মনে করি একটা নতুনত্ব হতে পারে। একটা হলো ত্রিপক্ষীয়। আরেকটা হয়তো কনসলশিপেও করা যায়। দিল্লি আমি মনে করি নতুনভাবে চিন্তা করা দরকার। বাংলাদেশকেও নতুনভাবে চিন্তা করা দরকার।’
বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সাথেও বৈঠক হতে পারে খলিলুর রহমান ও হুমায়ুন কবিরের। এরপর আগামী দশ-এগারো এপ্রিল মরিশাসে নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। এসময় সাইডলাইন বৈঠকে পাকিস্তান, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির সাথে বৈঠক করবেন তারা।




