সাপের মত আকা বাঁকা রেলপথ, ট্রেন উঠতেই দুলছে। পরিস্থিতি এমন, যেকোনো সময় লাইন থেকে ছিটকে যাবে ট্রেন ।
গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার চিত্র এটি। ট্রেন আসলে এই স্থানটি ছাড়াও আতঙ্কিত এমন চিত্রের দেখা মেলে আশেপাশের প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে।
কেবল শ্রীপুরে নয়, দেশের বিদ্যমান রেলপথের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশিরভাগেরই বেহাল দশা। উঁচুনিচু পথের কোথাও কোথাও পাথর না থাকায় ট্রেন উঠলেই দেবে যায় অন্তত ১ ফুট, জং ধরে ক্ষয় হয়ে গেছে বেশিরভাগ প্লেট, একটুতেই খুলে যাচ্ছে সংযোগ পয়েন্টের নাট-বল্টু।
রেলওয়ের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে রেলপথ আছে ৩ হাজার ৪২৮ কিলোমিটার কিছু বেশি। এরমধ্যে প্রায় ২ হাজার ৮৩৫ কিলোমিটারই ব্রিটিশ আমলের তৈরি।
গেল বিগত ১০ অর্থ বছরে রেলের বাজেট কয়েকগুণ বাড়লেও তা নতুন নেটওয়ার্ক তৈরিতেই।ব্যয় হয়েছে বেশি৷ অথচ দেশের ৭০ শতাংশ রেল পথ মেরামত, কিংবা সংস্কারের নজর ছিল সরকারের। ফলে প্রতি বছর নতুন সংখ্যা তৈরি করেছে রেল দুর্ঘটনা। আর বরাদ্দের কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে দুর্ঘটনা কবলিত লাইন মেরামতে।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত বছরে রেলে বরাদ্দগুলো ছিল এককেন্দ্রিক, যার বেশিরভাগই ব্যয় হয়েছে নতুন রেল নেটওয়ার্ক তৈরিতে। বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন কিংবা রেললাইন সংস্কারে খুব একটা ব্যয় হয়নি। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে রেলের গড় গতি আনুমানিক ৭০ কিলোমিটার । রেল লাইন গুলো আধুনিক করা গেলে এই গতি ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার করা সম্ভব। গতি বাড়াতে জোর দিকে হবে রেল ক্রসিং আধুনিকায়নেও।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘বড় বড় বিনিয়োগ হয়েছে শুধু অবকাঠামো দৃষ্টিনন্দন স্টেশন, আইকনিক স্টেশন ইত্যাদিতে। সেখানে দিনেও একটা দুইটা ট্রেন থামে কিনা এরকম অনেক প্রশ্ন আছে। কিন্তু যে কাজগুলি করার কথা ছিল, যেমন আমাদের অনেক ট্র্যাক এখনো দুর্বল, ব্রিটিশ আমলের ট্র্যাক, সেখানে প্রায়ই আমরা দেখছি ডিরেইল হয়ে পড়ে যাচ্ছে ট্রেন। আপনি গতিও বাড়াতে পারছেন না, নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারছেন না। তো আমার ধারণা যে এত বিনিয়োগ করলাম, এরপরও আমি বলব যে গতির দিক থেকে বা সেবার দিক থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে কিন্তু এখনো তলানিতে আছে।’
এদিকে, রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, পূর্বাঞ্চলের পুরানো রেলপথগুলোর উন্নয়নে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, প্রক্রিয়াধীন রয়েছে দরপত্র আহ্বানও। অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চলের রেলের উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদনের অপেক্ষায়। জরুরি পুরানো রেলপথগুলোর উন্নয়নকাজও শেষ করতে চায় কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামান বলেন, ‘পূর্বাঞ্চলের যে রেলপথ, রেললাইনগুলো বহুদিনের পুরাতন। এই রেল পুনর্বাসনের জন্য একটা প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে এবং রেল রিপ্লেসমেন্টের জন্য যে দরপত্র আহ্বান সেটা কিন্তু এখন প্রক্রিয়াধীন আছে। একই সাথে পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়। আশা করছি আমরা তিন বছরের মধ্যে রেল মেইন রুটটা আমাদের রেললাইনগুলো পুনর্বাসন হয়ে যাবে।’





