স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও আইনানুগ অবস্থানে রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের ওপর জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট রয়েছে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নাজুক ও বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে বিভিন্ন সংস্থাকে পুনর্গঠন ও শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হলেও সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।’
পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয় বরং মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা এবং অবসর গ্রহণ—সবই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হচ্ছে।’
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এসব প্রশাসনিক কাজে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
আরও পড়ুন:
বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে এবং বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অবিচার না ঘটে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আদালত থেকে জামিন পাওয়া আইনি বিষয়। তবে এসব চিহ্নিত অপরাধীরা যেন সমাজে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’
হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে।’
এসময় মন্ত্রী ঘোষণা করেন, ১ মে থেকে সারা দেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে এই অভিযানে কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক ব্যবসার মূল হোতা এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে জড়িত বড় সিন্ডিকেটগুলোকে ধরা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মাদকের এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি পেতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, মাদক চোরাচালান রোধ এবং ক্যাম্পের ভেতরে-বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জয়েন্ট ফোর্সের লিডারশিপ ও অপারেশনাল বিষয়গুলো নিয়েও সভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।’
সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশনকে ইতিহাসের অন্যতম সফল ও কার্যকর অধিবেশন হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময় পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে গঠনমূলক বিতর্ক ও রেকর্ড সংখ্যক আইন প্রণয়ন হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।





