দেশে পৌঁছেছে লেবাননে নিহত প্রবাসী দিপালীর মরদেহ

অ্যাম্বুলেন্সে নিহত দিপালীর মরদেহ
অ্যাম্বুলেন্সে নিহত দিপালীর মরদেহ | ছবি: এখন টিভি
0

লেবাননে যুদ্ধে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী দিপালী আক্তারের মরদেহ এক মাস পর দেশে এসেছে। বিমানবন্দরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে দিপালীসহ ৬ জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

অবশেষে লেবাননে চলমান যুদ্ধে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী দিপালী আক্তারের মরদেহ সব প্রক্রিয়া শেষে দেশে আসলো অনেকটা নীরবে। গতকাল রাত ১১:২৩ মিনিটে ইকে- ০৫৮৪ ফ্লাইটে লেবাননের বৈরুত থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। ৮ নং গেটে লাশ গ্রহণে আসেন তার বাবা,বোন লাইজু আক্তার। পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাত ১২ টার পর পরিবারের নিকট মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়।

দিপালী ২০১১ সালে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গত ৮ এপ্রিল বৈরুতের একটি ভবনে ইসরাইলি বিমান হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রফিক হারিরি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

তার পরিবারের সদস্যরা জানান, দীপালি তাদের পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম,ও ভরণপোষণের দায়িত্বে ছিলেন। বলেন,দিপালী আক্তারের মরদেহ দাফনের জন্য নিজ গ্রাম ফরিদপুরের চরভদ্রাসন নিয়ে যাওয়া হবে।

নিহত দীপালির পরিবারের সদস্যদের একজন বলেন, ‘আমরা পাঁচ ভাই-বোন আমরা ছোট তখন, সে সময় মারা গেছে আমার আব্বা। আমাদের রেখে বিয়ে করে নাই। উনি গিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি পরিবর্তন করছে, তারপর আমাদের পরিবর্তন করছে। আমার বাপরে দেখছে, আমাকে দেখছে, আমার দুইটা ভাইরে দেখছে—সবাইরে দেখছে, কিন্তু উনার ভবিষ্যতের কথা উনি কখনো চিন্তা করে নাই।’

আরও পড়ুন:

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন,যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন,যাদের মধ্যে দিপালীসহ ৬ জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আটজন আমাদের বাংলাদেশিরা নিহত হয়েছে বিভিন্ন দেশে, তার মধ্যে অত্যন্ত দুঃখজনক যে একজন নারী নিহত হয়েছে—আমাদের বোন দিপালী, দিপালী আক্তার। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের যারা দুর্ভাগ্যবশত যে বাংলাদেশি ভাইরা বা বোনরা নিহত হয়েছে, তাদেরকে যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের পরিবারের হাতে যেন আমরা মরদেহগুলোকে আমরা হস্তান্তর করতে পারি, সেটা আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘মরদেহ পরিবহন ও দাফন বাবদ প্রবাসী কল্যাণ থেকে ৩৫ হাজার টাকা সহযোগিতা করা হচ্ছে। বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে। আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে ৩ লাখ টাকা। বীমা থেকে তারা পাবেন আরও ১০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রবাসী কল্যাণ থেকে ১৩ লাখ টাকা দেয়া হচ্ছে।’

মরদেহ আনতে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধাবস্থায় মরদেহ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না থাকা,বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ, আইনি জটিলতা, নিয়ম-কানুন মেনে পুরো কাজ সম্পন্ন করে মরদেহ গুলো দেশে আনতে কিছুটা সময় লাগছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

এফএস