ঈদযাত্রায় মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল; আনন্দ ছাপিয়ে শোকের মাতম

দুর্ঘটনায় নিহতের স্বজনদের আহাজারি
দুর্ঘটনায় নিহতের স্বজনদের আহাজারি | ছবি: এখন টিভি
0

ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ার পাশাপাশি আনন্দ উল্লাসও বেড়ে যায়। কখনও কখনও যানজটে দুর্ভোগ হলেও ঈদ আনন্দ যেন সে দুর্ভোগকে ছাপিয়ে যায়। আজকের (সোমবার, ২৫ মে) ঘটনাও কিছুটা সেরকমই। মহাসড়কে ট্রাক উল্টে ১৫ জনসহ পৃথক ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ঘটা এ দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই ঈদ আনন্দ পরিণত হয়েছে স্বজন হারানোর বেদনায়, চারপাশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

আজ ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় ঘটে এ দুর্ঘটনা।

নিহতদের ১৫ জনের মধ্যে ৬ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্র বাড়ি এলাকার সাগর মিয়া, একই এলাকার রবিউল ইসলাম, রাজশাহীর তানুর উপজেলার বাতানপুর এলাকার ইসমাইল হোসেন, চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের নজরুল, মামুন ও নওগাঁর নেয়ামতপুর মালঞ্চী এলাকার সারিকুল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলো। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। মরদেহগুলো টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়েছে।

ট্রাক থেকে বেঁচে ফেরা নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার রাব্বানি বলেন, ‘চট্টগ্রামের অলংকার থেকে সন্ধ্যার দিকে রওনা হয়। ট্রাকের মধ্যে কেউ জেগে ছিলো, কেউবা ঘুমিয়ে ছিলো। আমি নিজেও ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোরে যখন দুর্ঘটনা হয়, আমি ছিটকে পড়ে যাই। আমার চাচা, চাচাতো ভাই ও বন্ধুরা মারা গেছে। আমি হকারের কাজ করে বাড়ি ফিরছিলাম।’

আরও পড়ুন:

নিহতদের মধ্যে একজনের স্বজন মলিনা বেগম বলেন, ‘আমার চাচাতো ভাই মারা গেছে। আমাদের ঈদ আনন্দ নেই। আমার চাচা ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে আমাদের মতো গরিব মানুষের অনেক উপকার হয়।’

স্থানীয় বুলবুল সরকার বলেন, ‘ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শব্দ শোনার পর পর লোকজন ঘটনাস্থলে আসি। এমন দুর্ঘটনা কখনো দেখি নাই। একসঙ্গে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।’

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, ‘আজ ভোরে রড়বোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছে। তারা সবাই উত্তরবঙ্গগামী যাত্রী ছিলেন। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি যে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’

এদিকে, যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ের গোলচত্বর এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৩২) নিহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও কালিহাতীর হাতিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।

এসএইচ