স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে, বিশেষ করে ঢাকা ও অন্যান্য মহানগর এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের অতিশীঘ্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এনে আইনের আওতায় নিতে হবে। যারা এ কাজে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে যেসব কর্মকর্তা ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সারাদেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, শুধু চাঁদাবাজদেরই নয়, যেসব পুলিশ সদস্য এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদেরও তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরে চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র হামলা চালায়। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চক্রটির সাত সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজনকে ঘটনাস্থল থেকে, একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, একজনকে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া থেকে এবং অপরজনকে সাঁতারকুল এলাকা থেকে আটক করা হয়। দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে থাকার সময় হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে অপরাধী চক্র গড়ে তোলেন। বড় বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের লক্ষ্য করে ভয়ভীতি দেখানো, বার্তা পাঠানো এবং পরে শারীরিক হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই ছিল চক্রটির মূল উদ্দেশ্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের তালিকা নয়, চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত বা সহযোগী থাকলে তাদের তালিকাও করা হচ্ছে। অপরাধী বা তাদের মদদদাতা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
চিকিৎসক ও বিভিন্ন পেশাজীবীর নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। কোনো চিকিৎসক নিজের চেম্বার বা ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তাঝুঁকি মনে করলে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দেশের যেকোনো নাগরিক শর্টগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক নিজের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করে আবেদন করলে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
পরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।





