সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখা এ শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যাম্পাস মানে এখনো কেবলই জলছবি, রঙমশাল আর রূপকথার পায়রাদের গল্প বলা।
তবে, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট তারা? প্রশ্ন শুনে কিছুটা থমকে দাঁড়ানো। তাদের কারো বিশ্বাস কর্মজীবনে সফল হতে ক্যাম্পাস থেকে পাওয়া শিক্ষা উপকারে আসবে। কারো কন্ঠে আবার হতাশা।
এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আবাসিক হলগুলোর যে পরিবেশ সেটা স্বাস্থ্যকর না।’ আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর অনেক রকম পরিবেশ। সেলফ ইমপ্রুভমেন্ট হয়ে যায়। বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য আমরা প্রস্তুত হয়ে যাই।’
কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে খেলার মাঠ, হলের ডাইনিং থেকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ। সব নিয়ে আক্ষেপ নবীন শিক্ষার্থীদের? লাখ লাখ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে, কেনই বা তারা আজ গর্ব করেন না?
এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘চাকরির বাজার সম্পৃক্ত ফিল্ড বা সুযোগ খুবই কম। একটা শিক্ষার্থী যে বিষয়ে পড়াশোনা করে সে ওরিয়েন্টেড চাকরি আমাদের দেশে নাই।’
চলতি বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা। যার মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধায় ব্যয় হবে সিংহভাগ। আর গবেষণার জন্য বরাদ্দ কেবল ২১ কোটি টাকা।
১০৬তম বছরে এসে আত্মসমালোচনা করে বর্তমান উপাচার্য বলেন, কেবল বাজেট ঘাটতির কারণেই বিশ্বর্যাংকিং-এ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারছেনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে, টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং কিউএস র্যাংকিং-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়াকে আশা হিসেবে দেখছেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানরা এখানে আছে। কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকলে, আর্থিক সঙ্গতি না থাকলে, মেশিন না থাকলে শুধু মেধা দিয়ে তো রিসার্চ হয় না। তাই আমাদের সে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।’
প্রাক্তন সময়ের গর্ভে হেটে বরেণ্য এ শিক্ষাবিদ জানান, শুরু থেকেই ধনী-গরীবের সামাজিক অবস্থান দূর করতে সক্রিয় ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মান বাড়াতে সবাইকে কাজ করার আহ্বান তার।
ঐতিহাসিক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘কেবল উচ্চ শ্রেণির ধনী বণিকদের জন্য কাজ করলে এ রাষ্ট্র ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান তখনকার যারা মোটামোটি শিক্ষিত লোক ছিল তারা বেশ খুশি হয়েছিলেন। কারণ এর মানে হলো আমাদের উন্নতি আমাদের ছেলে-মেয়েদের উন্নতি।’
ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার ও সরকার পতন আন্দোলনের মতো ঘটনাও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন। শিক্ষা আর গবেষণায় বারবার পিছিয়ে পড়ায় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বারবার হোঁচট খাচ্ছে।





