আবারও শোকাহত বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সেচ্ছাসেবক দলের নেতা কর্মীরা এসেছেন তাদের সহযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানাতে।
গতকাল বুধবার রাতে কারওয়ান বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের মরদেহ আনা হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে।
বাদ জোহর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুছাব্বিরের কফিন নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, এসএম জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলীসহ নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বিএনপি নেতারা জানান, মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে না পারলে, প্রমাণ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সদিচ্ছা নেই। আগামী শনিবার ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা আগামীর নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘একটি মহল নির্বাচন বানচাল করার জন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করছে। মুছাব্বির একজন সাহসী সৈনিক ছিলেন। শত শত মামলা, নিপীড়ন সহ্য করেছেন কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। আমরা মনে করি, মুছাব্বিরের হত্যাকাণ্ড নির্বাচন বানচালকারীদের চক্রান্তের অংশ। উদ্দেশ্য একটাই দেশকে অস্থিতিশীল করা। আমাদেরকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, ‘সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলবো, আপনারা মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করুন, নইলে আমরা খুঁজে বের করব। এ হত্যা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীরা বলেছেন, ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। আমরা আশা করবো— এ সময়ের মধ্যেই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হলে ধরে নেব আপনাদের আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি আছে অথবা আপনারা পারবেন না। তাই সরকারকে বলবো, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’
এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘আমি বলবো, অনতিবিলম্বে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত তারা যারাই হোক অনতিবিলম্বে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।’
এর আগে, দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসন কার্যালয়ের সামনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন ব্যাহত করতে যেসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, এটি তারই অংশ। পরাজিত ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র সফল হবে না।’
তিনি বলেন, ‘এটি হতে পারে পতিত ফ্যাসিবাদের শক্তি কিছু কিছু ষড়যন্ত্র এখনো চলমান রেখেছে। যাতে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। গণতন্ত্রের পথে সহজে না আগাতে পারে। কিন্তু তাদের এ প্রচেষ্টা কখনো সফল হবে না।’
এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।





