কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা চাই না: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান | ছবি: এখন টিভি
2

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত নির্বাচনের মতো নির্বাচন আমরা দেখতে চাই না। কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা করতে চাই না। আজ (সোমবার, ১২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চব্বিশের জটিল দিনগুলোয় সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে, এটা আমার এবং আমার দলের পারসেপশন, জাতি সিভিল ওয়ার থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগস্টের ৩, ৪ এবং ৫ তারিখ আপনারা যে ভূমিকা রেখেছেন সেটা না রাখলে আজকে বাংলাদেশে এখানে দাঁড়িয়ে আমি কথা বলতে পারতাম না।’

সব দল-মত এক হয়ে চব্বিশের আন্দোলনের অংশ নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমরা এ পরিবর্তন, বিপ্লব, গণঅভ্যুত্থান আমরা যে ভাষাই বলি, তার কোনো ক্রেডিট দল হিসেবে আমরা দাবি করিনি। বরঞ্চ আমাদের সরকারপ্রধান দেশের বাইরে কোনো একজন বিপ্লবের অংশীদারকে বিপ্লবের মাস্টামাইন্ড বলেছিলেন। আমিই প্রথম ব্যক্তি, আমি বলেছিলাম, এখানে কোনো ব্যক্তি মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। যদি এক ব্যক্তিকে মাস্টারমাইন্ড করা হয় বাকি সব ব্যক্তিকে আন্ডারমাউন্ড করা হবে, ওইটা আমরা মানি না। এখানে বাংলাদেশের বিপ্লবী জনগণ, সবাইমিলে আমরা মাস্টারমাউন্ড।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টাকে একটা একাউন্টিবিলিটির জায়গা থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীরও থাকতে হবে, প্রেসিডেন্টেরও থাকতে হবে। এটা মিউচুয়াল চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের ব্যাপার।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত তিন নির্বাচনে কোনো ভোট হয়নি। কেউই ভোট দিতে পারেনি। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে আমরা আশাবাদী। আগামী নির্বাচনে ভোটারদের জন্য বাধাহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা আর ভোটের প্রতিফলন ফলাফল পেলেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটা নির্বাচন চাই, যেখানে প্রত্যেকটি ভোটার নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। জনগণ যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবে। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।’

‘কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন করতে চাই না’— উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিগত নির্বাচনের মতো নির্বাচন আমরা দেখতে চাই না। কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা করতে চাই না। নির্বাচন মেকানিজম করার নির্বাচন চাই না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যদি ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করে তাহলে সবাই মিলে এদেশ থেকে তাদেরকে পালাতে বাধ্য করবো।’

তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সেসময় এদেশের জনগণের সঙ্গে ইনসাফের আচরণ করেনি বলে উল্লখ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আজকের এসময়টা জাতির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। ১৯০ বছরের গোলামীর জিঞ্জির ছিঁড়ে উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছিল। সামান্য কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার ব্যবধানে পাকিস্তান এবং ভারত নামে আলাদা আলাদা দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। ওইদিন যে ভূখণ্ডটি পূর্ব পাকিস্তান ছিল, সময়ের পরিক্রমায় আজকে এটি বাংলাদেশ। ২৩ বছর পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে আমরা একসঙ্গে চলেছি। সে সময়টা যারা পশ্চিম পাকিস্তানের ছিলেন, তারা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ইনসাফ পূর্ণ আচরণ করেননি। এই ডেসপারেটির বিরুদ্ধেরই একটা নিরব দ্রোহ ছিল সত্তরের নির্বাচন। পরবর্তীতে এ নির্বাচনের হাত ধরেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, অসংখ্য জীবনদান, বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে পুনরায় দ্বিতীয় স্বাধীনতা বাংলাদেশের জন্ম।’

এসএস