‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ করে সংকটের সুরাহা করেন, নাহলে পরিণতি ভোগ করতে হবে’

কথা বলেছেন নাহিদ ইসলাম
কথা বলেছেন নাহিদ ইসলাম | ছবি: এখন টিভি
1

দেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে হাম ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করলে সরকারকে পরিণাম ভোগ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সরকারকে বলবো, দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ করে এই সংকটের সুরাহা করেন। জাতীয় ঐক্যকে টিকিয়ে রাখুন। নাহলে এর পরিণতি আপনাদের ভোগ করতে হবে।

আজ (সোমবার, ১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এগারো দলীয় ঐক্য ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করে। এ সেমিনারে উপস্থিত হয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশে দু’টি প্রশ্ন দেখা দেয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিলো ফ্যাসিবাদের বিলোপ। বিএনপি চেয়েছিলো নির্বাচন। আমরা সংস্কারের জন্য গণপরিষদের দাবি জানিয়েছিলাম। পরে বিএনপি সংস্কারের আলোচনা অংশ নেয়। এজন্য আমরা গণপরিষদের পরিবর্তে সংস্কার পরিষদ এর দাবি মেনে নেই।’

আরও পড়ুন:

বিএনপি একটি কৃত্রিম বিরোধ তৈরি করছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি জুলাই সনদ আর জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। কারণ জুলাই সনদকে তারা নিজেদের দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে। এজন্য গণভোটের প্রশ্ন দেখা দেয়। কারণ সংবিধানের ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন সম্ভব নয়। এজন্য গাঠনিক ক্ষমতা সংস্কার পরিষদের কথা এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মেনে নিয়েছে। এখন বিএনপি কথার বরখেলাপ করেছেন, গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার কথা। জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে সুরক্ষিত করবো, হামের মতো দুর্যোগ কীভাবে মোকাবিলা করবো, জ্বালানি সংকট সমাধান নিয়ে সেমিনার করার কথা। আমাদের দুর্ভাগ্য গত ষোলো বছর যে সংস্কারের কথা বলতে হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের আলোচনা করেছে, এখনো আমাদের সেসব নিয়ে পড়ে থাকতে হচ্ছে। জাতিকে এ দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি। ফলে বিএনপিকে এর দায়ভার এবং পরিণতি ভোগ করতে হবে। এর পরিণতি খুব সহজ হবে না।’

সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়া‌ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ এগারো দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

এসএইচ